স্বতন্ত্র পরিদপ্তর গঠন ও ডিপ্লোমাধারীদের ১০ম গ্রেড (২য় শ্রেণির গেজেটেড) পদমর্যাদা প্রদানসহ ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন দেশের মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসির শিক্ষার্থীরা। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী একজন চিকিৎসকের বিপরীতে ৫ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হিসেবে প্রয়োজনীয় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগেরও দাবি জানান তারা।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানান তারা। সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বৈষম্য বিরোধী মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পরিষদ এই কর্মসূচির আয়োজন করে। এতে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
এসব দাবি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে একটি স্টেয়ারিং কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি। গঠিত কমিটিতে ছাত্র ও পেশাজীবি পরিষদের প্রতিনিধি রেখে অতিদ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অনুরোধ জানান সংগঠনের নেতারা।
এসময় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৪ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রশাসনিক জটিলতায় মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে এখন সরকারি চাকরিতে কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪১০৬ জনে এবং মোট পদের সংখ্যা ৫৯৭৫টি, যা প্রয়োজনের তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল।
এ খাতে বৈষম্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পেশাগত উন্নয়ন, বদলি, পদোন্নতি, উচ্চ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সমন্বয়ের জন্য কোনো স্বতন্ত্র উইং কিংবা অধিদপ্তর নেই। ইনস্টিটিউটগুলোয় পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। গত ২০ বছর ধরে গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের পদ তৈরি হয়নি।
কর্ম অবস্থান কর্মসূচিতে মূল বক্তব্য রাখেন পরিরষদের আহবায়ক মো. আসাদুল সিকদার ও ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের সদস্য সচিব জীবন ইসলাম।
দাবিগুলো হলো:
১. মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ এবং শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় একটি স্বতন্ত্র ‘মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসি পরিদপ্তর’ গঠন।
২. ডিপ্লোমাধারীদের ১০ম গ্রেড (২য় শ্রেণির গেজেটেড) পদমর্যাদা প্রদান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী আনুপাতিক হারে পদ সৃজন করে দ্রুত নিয়োগ ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ২০১৩ সালের স্থগিতকৃত নিয়োগ প্রক্রিয়া চালু।
৩. গ্র্যাজুয়েট মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের নবম গ্রেডের পদ সৃষ্টি ও চলমান পদোন্নতি চালু এবং ঢাকা আইএইচটি-কে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর।
৪. শিক্ষকদের স্বতন্ত্র ক্যারিয়ার প্ল্যান গঠন করে বিদ্যমান নিয়োগ বিধি ও অসংগতিপূর্ণ গ্রেড সংশোধন।
৫. মেডিকেল টেকনোলজি কাউন্সিল ও ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড গঠন এবং প্রাইভেট সার্ভিস নীতিমালা প্রণয়ন।
৬. বি-ফার্মসহ সকল অনুষদের বিএসসি ও এমএসসি কোর্স, স্কলারশিপ ও প্রশিক্ষণ ভাতা চালু।