বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হামলা

নামের ভুলে ঢাবি ছাত্রলীগ নেতার বদলে সাংবাদিক গ্রেপ্তার

আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৪৭ পিএম

নামের ভুলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে ছাত্রলীগ নেতার বদলে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে মেহেদি হাসান সাগর নামে সেই সাংবাদিককে গেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেপ্তার হওয়া মেহেদি হাসান সাগর ঢাকা ট্রিবিউনের আলোকচিত্রী হিসেবে কর্মরত। এছাড়া তিনি এপি’সহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার হয়েও কাজ করেন। 

জানা গেছে, গত ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাস্পাস এলাকায় ভাঙচুরের মামলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইল এলাকা থেকে মেহেদি হাসান সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় মেহেদি সাফজয়ী নারী ফুটবল দলের ছাদখোলা বাসযাত্রার ছবি তোলার জন্য অফিসিয়াল অ্যাসাইনমেন্টে ছিলেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মামলায় ১৩৪ নম্বর আসামি হচ্ছেন মুজিব হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান সাগর। আর গ্রেপ্তার ফটোসাংবাদিক সাগর একই হল শাখার ছাত্রলীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন। 

দুইজনের নামই মেহেদি হাসান সাগর, ডিপার্টমেন্ট ও সেশন একই। কিন্তু এজহারে যার নাম আছে তার পদবি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক। আর যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনি তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ছিলেন এবং অনেক আগে রাজনীতি ছেড়ে ফটো সাংবাদিকতা করছেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি ও বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার বিশ্বজিত বড়ুয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেহেদি হাসান সাগর নামের দুইজনই আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের দু’জনকেই চিনি। একজন সাংবাদিক আরেকজন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।’

নিউ ইয়র্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা এপির ঢাকা অফিসের একজন সাংবাদিক বলেন, মেহেদি তাদের সঙ্গে খণ্ডকালীন (স্ট্রিংগার) হিসেবে কাজ করেন। জুলাই-আগস্টে এপির টেলিভিশনের জন্য তার কাছ থেকে ভিডিও ফুটেজ নিয়েছিলেন তারা।

মেহেদি হাসানের গ্রেপ্তারের বিষয়ে ছাত্র আন্দোলনের ছবি তুলে আলোচিত ফটোসাংবাদিক জীবন আহমেদ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যে ছেলেটি জুলাইয়ে ক্যামেরা হাতে ছোটাছুটি করত, আজ সেই ছেলেটা হত্যা মামলার আসামি!’

মেহেদির হলের একজন বন্ধু নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন, আন্দোলনের পুরোটা সময় ঝুঁকি নিয়ে ছবি তুলেছেন সাগর। আর হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাগরকে ক্যাম্পাসে রাম দা হাতে দেখা গেছে, যার ছবি ও ফুটেজও রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক সম্পাদক সাগরকে ধরিয়ে দিতে পোস্টারও করা হয়।

ডিএমপির জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ‘মেহেদির নামে শাহবাগ থানায় মামলা আছে। এখন ওরা (ঢাকা ট্রিবিউন) যেটা ক্লেইম করেছে সেটা যাচাই-বাছাই চলছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত