শিক্ষা পরামর্শ

প্রতিভাকে বিকশিত করতে অংশ নাও স্বেচ্ছাসেবায়

শিক্ষাজীবনে সময়ের সদ্ব্যবহার করার একটি উপায় হতে পারে স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণ করা। স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করলে বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। শিক্ষার্থী জীবনে স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে লিখেছেন এনাম-উজ-জামান

বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে : শিক্ষার্থী জীবন হলো কর্মজীবনের প্রস্তুতিকাল। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতাও সফল ক্যারিয়ারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মজীবনের শিষ্টাচার। আর তা শেখার চমৎকার একটি মাধ্যম হতে পারে স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণ করা। কাজের ধরনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন নিয়ম অনুসরণ করা হলেও কর্মক্ষেত্রের শিষ্টাচার প্রায় একই। এই শিষ্টাচার পরিবার বা বিদ্যালয়ের শিষ্টাচার অপেক্ষা ভিন্ন। অগ্রজদের সম্মান প্রদর্শন, ভুলের দায় নেওয়া, সময়মতো কাজ শেষ করা, দলীয় কাজে নিজের দায়িত্ব পালন ইত্যাদি বিষয় আত্মস্থ করতে স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণের বিকল্প নেই। তাই বাস্তব জীবনে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের আগেই প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচারগুলো আয়ত্ত করতে অংশ নাও স্বেচ্ছাসেবায়।

লক্ষ্য সম্পর্কে সুস্পষ্ট হওয়া যায় : যে পেশায় নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাও সে পেশা সংক্রান্ত স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণ করলে নিজের আগ্রহ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারো। দূর থেকে দেখে, জেনে যেকোনো পেশা সম্পর্কে আগ্রহ হতে পারে। কিন্তু বাস্তব জীবনে কাজটি ততটা আকর্ষণীয় নাও মনে হতে পারে। তা ছাড়া কোনো পেশায় অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহই শেষ কথা নয়।

যেকোনো পেশায় সফল হতে হলে সে পেশায় আগ্রহের পাশাপাশি সহজাত দক্ষতারও প্রয়োজন হয়। স্বতঃস্ফূর্ত দক্ষতায় কর্মসম্পাদন করতে পারছ কিনা তাও তুমি জানতে পারবে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করলে। তাই নিজের আগ্রহ ও দক্ষতা তোমার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য কিনা তা জানতে স্বেচ্ছাসেবক হও।

সিভিকে করবে সমৃদ্ধ : একটি সমৃদ্ধ সিভি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। স্বেচ্ছাসেবায় অভ্যস্ত প্রার্থী সবসময় নিয়োগদাতাদের পছন্দের তালিকায় আগে থাকেন। কারণ তারা জানেন। যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণ করেছেন তিনি যেমন প্রাতিষ্ঠানিক শিষ্টাচারগুলো জানেন তেমনি তার শেখার ক্ষমতাও বেশি। তা ছাড়া দলবদ্ধভাবে কীভাবে কাজ করতে হয় তাও তিনি জানেন অন্য সবার থেকে বেশি। সে ক্ষেত্রে সিভিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার বিষয়টি হয়ে উঠতে পারে চাকরিপ্রাপ্তির অন্যতম নিয়ামক। তা ছাড়া দেশে পড়ার সুযোগ পাওয়া ও বসবাসের অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রেও স্বেচ্ছাসেবায় অংশ নেওয়া ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

দেবে আত্মবিশ্বাস : মানুষ নানা কারণে হীনম্মন্যতায় ভোগে। এই হীনম্মন্যতার কারণে নতুন কোনো কাজে অংশগ্রহণ করতেই ভয় পায়। তা সে চাকরি আবেদন হোক বা কারও সঙ্গে পরিচয় হতেই হোক। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যক্তির হীনম্মন্যতা দূর হয়। তার সুপ্ত প্রতিভা সম্পর্কে জানতে পারে, কাজে লাগাতে পারে এবং সফল হয়। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে এই সফলতা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে, সাহস জোগায়।

বিষণœতা থেকে মুক্তি : রুটিন মাফিক পড়াশোনা করতে করতে জীবন একঘেয়ে হয়ে পড়ে। বিষণœতা ঘিরে ধরে। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিচিত্র মানুষের সঙ্গে পরিচিত ও চেনাজানা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। যা জীবন একঘেয়ে হওয়া থেকে মুক্তি দেয়, বিষণœতা থেকে দূরে রাখে।