তারেক রহমানের রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হাইকোর্টে বাতিল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা বাতিলের নির্দেশনা দিয়েছে উচ্চ আদালত। মামলা বাতিল প্রশ্নে দেওয়া রুল মঞ্জুর করে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। এ মামলায় আরও তিনজন হলেন একুশে টেলিভিশনের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, সাংবাদিক মাহাথির ফারুকী ও কনক সারওয়ার। আদালতে আবদুস সালামের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তারেক রহমান, আবদুস সালামসহ চারজনের সবার মামলা খারিজ করেছে হাইকোর্ট।’

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি লন্ডন থেকে তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য একুশে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করে। পরদিন তারেক রহমান ও আবদুস সালামের নামে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি চায় পুলিশ। অনুমতির পর তেজগাঁও থানায় ২০১৫ সালের ৮ জানুয়ারি এ মামলাটি হয়। ২০১৭ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। সেখানে তারেক ও সালামের সঙ্গে একুশে টেলিভিশনের প্রধান প্রতিবেদক মাহাথির ফারুকী খান এবং জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কনক সারওয়ারকে আসামি করা হয়। আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিলে এ অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। ২০১৭ সালে হাইকোর্ট এ মামলার কার্যক্রমের বৈধতা নিয়ে রুল ও বিচার কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। সেই রুলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি শেষে এ রায় হলো।

খালেদা জিয়ার আরও এক মামলা হাইকোর্টে বাতিল : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে করা আরও একটি মামলার কার্যক্রম বাতিল ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ-সংক্রান্ত রুল মঞ্জুর করে এ রায় দেয়।

এর আগে গত বুধবার খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের একটি, নাশকতার ১০টিসহ ১১টি মামলার কার্যক্রম বাতিল করে রায় দেয় হাইকোর্ট।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্যমতে, নাশকতার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৩ মার্চ রাজধানীর দারুসসালাম থানায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিলের পর মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ১৬ মে হাইকোর্ট রুল দিয়ে মামলাটির কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় রুলের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল এ রায় হলো। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আইনজীবী কায়সার কামাল।