তারা তিন মাস লাপাত্তা

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত কুমিল্লার কয়েকটি সরকারি দপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকে তারা আর প্রকাশ্যে আসছে না। যাদের মধ্যে কেউ কেউ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, কেউবা আবার ছিলেন দলীয় নেতাদের ঘনিষ্ঠ সহচর।

কর্মস্থলে অনুপস্থিত এই সাত কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি গোস্বামী, একই কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফ, লাকসামের মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান মজুমদার, কুমিল্লা কারাগারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মাহাবুবুল ইসলাম, সওজ কুমিল্লা সার্কেল অফিসের কম্পিউটার অপারেটর আনিসুর রহমান ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. নজরুল ইসলাম এবং সোনালী ব্যাংকের কর্মচারী হাসান মাহামুদ চৌধুরী সুমন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভিক্টোরিয়া কলেজের ডিগ্রি শাখার উপাধ্যক্ষ মৃণাল কান্তি গোস্বামী ৫ আগস্টের পর দুই-তিন দিন আসেন কলেজে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তৎকালীন অধ্যক্ষ আবু জাফর খানের সঙ্গে সাদা কাগজে তিনিও ‘পদত্যাগ করেছেন’ মর্মে সই করেন। এরপর থেকে আর তাকে কলেজে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে মৃণাল কান্তি গোস্বামী বলেন, ‘আমি রাজনৈতিকভাবে কখনোই কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি। এখন পরিস্থিতির শিকার। তাই কলেজে যাচ্ছি না। তবে বাসায় বসে অফিশিয়াল কাজগুলো করি।’

একই অবস্থা কলেজের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউসুফের। ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন তিনি। অভিযোগ আছে, আন্দোলন চলাকালে তিনি ছাত্রলীগ নেতাদের হলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করেন। সম্প্রতি ঢাকা কলেজ থেকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে পদায়নের খবরের পরই তার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়লে তিনি অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এসে যোগদানপত্রে সই করেই চলে যান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। এই পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে।’

সরকার পতনের পর থেকে কর্মস্থলে নেই লাকসামের মুদাফরগঞ্জ আলী নওয়াব উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল মান্নান মজুমদার। তিনি সাবেক এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ দিন এই কলেজে কর্মরত বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আবদুল মান্নান মজুমদার বলেন, ‘আমি হার্টের রোগী, তাই ছুটি নিয়েছি।’

কুমিল্লা কারাগারের উপ-তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ মাহাবুবুল ইসলামও ৫ আগস্টের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত। অসুস্থতার কথা বলে কারাগার ছাড়েন তিনি। এই কারা কর্মকর্তা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মা বলে সম্বোধন করতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল বলেন, ‘মাহাবুবুল ইসলাম অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে কারাগার ছাড়েন। আমরা তার অনুপস্থিতির তথ্য অধিদপ্তরকে জানিয়েছি।’

সরকার পতনের পর থেকে খোঁজ নেই শ্রমিক লীগের কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক ও সওজ কুমিল্লা সার্কেল অফিসের কম্পিউটার অপারেটর আনিসুর রহমান ভূঁইয়ার। সহকর্মীরা জানান, অফিসের সবার কাছে নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে উপস্থাপন করতেন আনিসুর।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি কুমিল্লা মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান মাহামুদ চৌধুরী সুমন। তিনি সোনালী ব্যাংকের কর্মচারী ও সোনালী ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের কুমিল্লা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক।

একই অবস্থা কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. নজরুল ইসলামের। তিনি মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। এ বিষয়ে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো আবদুল করিম খন্দকার বলেন, ‘নজরুলকে আমরা ইতিমধ্যে তিনটি শোকজ নোটিস দিয়েছি। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিউত্তর দেননি।’