যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বাকি মাত্র তিন দিন। ভোটারদের নিজেদের বলয়ে টানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন নির্বাচনে দুই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটারদের মন জয়ে নিজেদের পরিকল্পনা ও নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ভবিষ্যৎ সরকার গঠনে চমক দেখানোর ঘোষণা দিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউজের মসনদে বসলে এবার রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র ও ইলন মাস্কের মতো লোকদের নিয়ে সরকার ঢেলে সাজাতে চান ট্রাম্প। কেনেডি জুনিয়র যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিনেটর রবার্ট এফ কেনেডির ছেলে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ভাতিজা। এবারের নির্বাচনে প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে গত আগস্টে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে ট্রাম্পকে সমর্থনের ঘোষণা দেন কেনেডি জুনিয়র। নির্বাচনে জিতলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় একচ্ছত্র ক্ষমতা দিতে চান ট্রাম্প। গত সোমবার নিউ ইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এক নির্বাচনী সমাবেশে এ বিষয়ে নিজের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।
তবে বিশ্বের শীর্ষ ধনী মহাকাশযান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের মালিক ইলন মাস্ককে আরও বড় দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন ট্রাম্প। প্রযুক্তি ব্যবসায়ী মাস্ককে নিজের উপদেষ্টা কিংবা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য করতে চান বলে জানিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী। মাস্ককে দিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আকার কমাতে চান তিনি। সম্ভাব্য ট্রাম্প সরকারে মাস্কের কী ভূমিকা হতে পারে, তা নিয়ে গত মাসে কথা বলেছেন সিএনএনের সাংবাদিক ডেভিড গোল্ডম্যান। তার মতে মাস্ক নাকি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় মাস্কের মাধ্যমে ২ ট্রিলিয়ন ডলারের খরচ কমানোর পরিকল্পনা ট্রাম্পের। তবে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অর্থমন্ত্রী ল্যারি সামার। তার মতে, সরকারি চাকরিজীবীদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে এই অর্থ বাঁচানো যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের বাজেটের মাত্র ১৫ শতাংশ দেশটির বেতন খাতের জন্য বরাদ্দ। তাই সরকারি সব চাকরিজীবীকে সরিয়ে দিলেও ২ ট্রিলিয়ন ডলার বাঁচানো যাবে না। ট্রাম্প সরকার গঠন করলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় আমলাতন্ত্রকে ঢেলে সাজাতে চান মাস্ক। গত মাসে পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ শহরে এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন মাস্ক।
এদিকে, নির্বাচনের আগে শেষ মুহূর্তেও প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন দুই প্রার্থীই। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের অঙ্গরাজ্যগুলোয় নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন কমলা ও ট্রাম্প। নেভাদার লাস ভেগাসে কমলার পক্ষে প্রচার চালিয়েছে দেশটির জনপ্রিয় পপ তারকা জেনিফার লোপেজ। একাধারে পপতারকা, অভিনেত্রী ও প্রযোজক জেনিফার লোপেজ বলেছেন, ‘আমি নারীর শক্তিতে বিশ্বাস করি। নারীদের এই নির্বাচনে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে। লোপেজকে তার সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী লাতিন তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লোপেজের কমলার পক্ষে প্রচারের বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের লাতিন ভোটারদের কাছে টানার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যারিজোনা ও নেভাদার উদ্দেশে রওনা করার আগে উইসকনসিনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস। এ সময় ট্রাম্প ক্ষমতায় গেলে যুক্তরাষ্ট্রে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময়ে চালু হওয়া স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচিটি বাতিল করে দিতে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, পশ্চিমাঞ্চলের অ্যারিজোনায় প্রচারণায় ট্রাম্প বলছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও কমলার অভিবাসননীতি নিয়ে বিরক্ত সেখানকার বাসিন্দারা। এই অঙ্গরাজ্যের মেক্সিকোর সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে। বিষয়টিকে সামনে এনে অ্যারিজোনায় সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন ট্রাম্প। আগামী ৫ নভেম্বর নির্বাচনের দিনের আগে নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে প্রচার চালাবেন কমলা ও ট্রাম্প। এ ছাড়া জর্জিয়া, উইসকনসিন, মিশিগান ও পেনসিলভানিয়ায় সফর করবেন কমলা। ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ছয় কোটির বেশি নাগরিক আগাম ভোট দিয়েছেন।