পুরুষদের মধ্যে প্রোস্টেট ক্যানসার খুবই সাধারণ বিষয়। এই ক্যানসার নিরাময়যোগ্য। প্রোস্টেট গ্রন্থির মধ্যে কোষগুলো যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে শুরু করে তখনই ক্যানসার হতে পারে। সাধারণত ৫০ বছরের পর পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এর চেয়ে কম বয়সেও প্রোস্টেট ক্যানসার হতে পারে। পরিবারের কারও যদি (ভাই কিংবা বাবার) প্রোস্টেট ক্যানসার থাকে তাহলেও ঝুঁকির সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকখানি। প্রোস্টেট ক্যানসারের সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ণয় এখনো সম্ভব হয়নি, তবে কতগুলো বিষয় লক্ষ করা গেছে যেগুলো প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
লক্ষণ : ঘন ঘন প্রস্রাব, প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারা, রাতে প্রস্রাবের জন্য ঘুম ভেঙে যাওয়া, কখনো কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো লক্ষণ। এর যেকোনো একটি প্রকাশ পেলে অবশ্যই প্রোস্টেট ক্যানসার স্ক্রিনিং করতে হবে। যদিও এগুলো শুধু প্রোস্টেট ক্যানসার নয়, প্রোস্টেট ক্যানসারের সঙ্গে প্রোস্টেটের অন্যান্য রোগ বা বিনাইন প্রোস্টেটিকঅ্যানলার্জমেন্ট, সে ক্ষেত্রে বেশি হয়।
কখন যাবেন ডাক্তারের কাছে : ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে ডাক্তারের কাছে যাবেন এছাড়া মূত্রত্যাগ, দুর্বল বা ব্যাহত প্রস্রাব প্রবাহে ড্রিবলিং বা রক্তাক্ত প্রস্রাবের অসুবিধা, রক্তাক্ত বীর্য, ইরেক্টাইল সমস্যা, যেমন ইরেক্টাইল ডিসঅংশানশন বা বেদনাদায়ক বীর্যপাত, পায়ে ফোলাভাব, মলদ্বারে চাপ বা ব্যথা। দুর্বলতা বা পায়ে অসাড়তা বোধ করা, মূত্রাশয় বা অন্ত্র নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া। ওজন হ্রাস। অবসাদে ভোগা।
প্রতিকার : অেতিরিক্ত ওজন যেন না হয়। শারীরিক পরিশ্রম অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়া। প্রতিদিনকার ডায়েটে প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধী খাবার রাখা। চর্বিযুক্ত মাছ রাখা। বিশেষত সালমন মাছ যাতে ওমেগা৩ আছে। রান্না করা টমেটো খাওয়া। লাইকোপিন ধারণ করে, যা স্বাস্থ্যকর রক্ত সরবরাহের সঙ্গে ক্যানসার রোধ করে। ব্রকলি খেতে হবে। ক্রুসিফেরাস শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস এবং ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে, যা ক্যানসার কোষকে মেরে ফেলতে পারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ গ্রিন টি পান করা। বাদাম, আখরোট, কফি, গাজর, ডালিমের রস এবং মটরশুঁটি প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধের করে।
সচেতনতা : রেডমিট, উচ্চ ফ্যাটযুক্ত দুধ ও প্রচুর ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে। কেমিক্যাল, টক্সিন, সূর্যের আলো থেকে দূরে থাকাও দরকার।