কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকারা ইউপির চারিতুপায় ডাকাতিয়া নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর নির্মাণকাজ গত তিন বছরেও শেষ হয়নি। সেতুর পাশে কোনো বিকল্প পদ্ধতি না রাখায় বর্তমানে যাতায়াতের জন্য মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। এদিকে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর থেকে আত্মগোপন রয়েছে ওই ঠিকাদার।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নাঙ্গলকোট এলজিইডি আওতায় ২০২১ সালে ডাকাতিয়া নদীর ওপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ চারিতুপা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতুর নির্মাণকাজ পান মেসার্স জাহের ট্রেডাস অ্যান্ড জেবির মালিক ও লালমাই উপজেলার বাগমারা উত্তর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় গত তিন বছরেও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। এসময়ে শুধু দুই পাড়ের কিছু অংশ ও নদীর মধ্যে বড় বড় দুটি পিলার বসিয়েছেন মাত্র। গত ৭ মাস ধরে সেতুর নির্মাণকাজ একেবারে বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, নাঙ্গলকোট ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাকাতিয়া নদী প্রতিদিন পারাপার হয় ৫ শতাধিক মানুষ। গত ৩০ বছর আগে এলাকাবাসীর যাতায়াতের সুবিধার্থে নিজেদের উদ্যোগে কখনো বাঁশের সাঁকো আবার কখনো কাঠের সেতু নির্মাণ করে যাতায়াত করতেন। এলাকাবাসীর কথা চিন্তা করে ২০২১ সালে ৭৫ মিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু গত তিন বছরেও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এবং সেতুর পাশে যাতায়াতের বিকল্প পদ্ধতি না রাখায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে চারিতুপা গ্রামের শামছুল আলম ও কৃষক ইব্রাহিম বলেন, গত তিন বছর আগে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। এখন বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে আমাদের নদী পারাপার হতে হয়। মাঝে মাঝে দুর্ঘটনাও ঘটে। বর্তমানে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সেতু নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। তারা জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।
নৌকায় যাতায়াতকারী চারিতুপা গ্রামের রোকসানা ও কোহিনুর বেগম বলেন, নৌকা দিয়ে ছোট বাচ্চা এবং প্রসূতি মায়েদের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে নৌকা দিয়ে পারাপারে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এ বিষয়ে ঠিকাদার চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোবাইলে বলেন, বিভিন্ন জটিলতার কারণে পুনরায় কাজটির এস্টিমেট হতে এক বছর দেরি হয়। তার মধ্যে বন্যার কারণে কাজ করতে পারিনি। আমরা অফিসকে সব বিষয়ে জানিয়েছি। নদীর পানি বিপদসীমার নিচে গেলেই কাজ শুরু করে দেব।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাকে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করার বিষয়ে কর্মপরিকল্পনাও দাখিল করতে বলা হয়।
কুমিল্লা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, সঠিক সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর কাজ না করায় কাজটি বাতিলের জন্য ঢাকা এলজিইডি অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বাতিলের চিঠি এলে পুনরায় টেন্ডার করে কাজ শুরু করা হবে।