বিএনপি দেশের কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার আমরা কারা। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে।’
গতকাল শনিবার বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারের কনফারেন্স হলে প্রয়াত এই কূটনীতিকের পরিবারের পক্ষ থেকে এ সভার আয়োজন করা হয়। জাতীয় পার্টি ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘যেটা কোনো ইস্যুই নয়, সেই ইস্যুকে সামনে এনে নতুন করে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।’
স্মরণসভায় সাবিহ উদ্দিন আহমেদের জীবন-কর্ম তুলে ধরে তাকে স্মরণ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার শাসনামলে সাবিহ উদ্দিন আহমেদসহ অনেক নেতাই সরকারের রোষানলে নির্যাতিত হয়েছিলেন। ওই সময়ে তার ওপরে প্রচ- আক্রমণ হয়েছিল, তার গাড়িটা পুড়িয়ে দিয়েছিল; রিয়াজ রহমানের গুলি লেগেছিল। এই সময়গুলো আমরা পার করেছি। বহুবারই বিভিন্ন গ্রেপ্তার হওয়ার মুহূর্ত থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। সাবিহ উদ্দিনের চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য কষ্টকর। আমরা যারা একসঙ্গে ছিলাম, তাদের কাছে এটা বেদনার।’
২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ (৭৬)। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে তিনি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাবিহসহ আমরা যারা ছাত্ররাজনীতি শুরু করেছিলাম, আমাদের একটা লক্ষ্য ছিল, এই সমাজকে পরিবর্তন করব, আমরা বদলে দেব। সেটা সেই সময় সম্ভব হয়নি। সরকারি চাকরিতে গেলেও সাবিহ কখনো সেই লক্ষ্য থেকে সরে যাননি। সাবিহ যেখানেই ছিলেন সেখানেই দেশের জন্য কাজ করেছেন, জনগণের জন্য কাজ করেছেন। সবচেয়ে বেশি আমার মনে পড়ে, যখন তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে কাজ করেছেন। তখন দেখেছি, তিনি সবচেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেছেন।’
সভায় অর্থ উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাবিহ উদ্দিন ছিলেন প্রকৃত জাতীয়তাবাদী। দেশ ও জনগণের প্রশ্নের কোনো আপস করেননি। এমন মানুষ পাওয়া দুষ্কর। আমরা হারিয়েছি, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, সিরাজুল ইসলাম সবুজসহ আরও অনেককে। তাদের মধ্যে সাবিহ অনন্য। আমরা তার পরিবারের জন্য দোয়া করি।’
অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ বলেন, ‘সাবিহ শেষ দিন পর্যন্ত দেশের কথা ভেবেছেন, দশের কথা ভেবেছেন। তার মধ্যে স্বার্থপরতা ছিল না। দেশপ্রেমের প্রশ্নে কোনো আপস তিনি করেননি।’
সভায় প্রয়াত সাবিহ উদ্দিন কর্মজীবনের ওপর স্মৃতিচারণ করেন প্রবীণ সম্পাদক শফিক রেহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, সাবিহ উদ্দিনের ছোটভাই সালাহ উদ্দিন আহমেদসহ অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক, ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার নাগরিকরা। প্রয়াত সাবিহ উদ্দিনের সহধর্মিনী রওনক আহমেদ, ছেলে সাইয়াব আহমেদ, বিএনপি মহাসচিবের সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগমসহ নিকট স্বজনরাও ছিলেন স্মরণসভায়।