ক্লাব ফুটবলে কোচের পদবির নাম থাকে ম্যানেজার হিসেবে। তবে এক্ষেত্রে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অনন্য নজির গড়েছে৷ চাকরিচ্যুত এরিক টেন হাগের মতো ক্ষমতা পাচ্ছেন না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন কোচ রুবেন আমোরিম। চুক্তিপত্রে তার পদবী ম্যানেজারের জায়গায় দেওয়া হয়েছে প্রধান কোচ। অর্থাৎ দল পরিচালনা করবেন, ম্যাচের কৌশল ঠিক করবেন, ডাগআউটেও দাঁড়াবেন। কিন্তু খেলোয়াড় বেচাকেনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘ভেটো’ ক্ষমতা থাকছে না আমোরিমের।
গত সপ্তাহে টেন হাগকে ছাঁটাই করে পর্তুগিজ কোচ আমোরিমকে তিন বছরের জন্য নিয়োগ দেয় ইউনাইটেড। বর্তমানে স্পোর্টিং লিসবনের দায়িত্বে থাকা আমোরিম সামনের আন্তর্জাতিক বিরতির সময় ওল্ড ট্রাফোর্ডে দায়িত্ব বুঝে নেবেন।
সাধারণত ক্লাবের সঙ্গে কোচের চুক্তিপত্র গোপনীয় নথি হিসেবে বিবেচিত। বেতনের অঙ্ক বা চুক্তির বিভিন্ন বিষয় দুই পক্ষের কেউই সামনে আনে না। আমোরিমের ইউনাইটেডে ভেটো ক্ষমতা না থাকার খবরটি দিয়েছেন ব্রিটিশ সাংবাদিক বেন জ্যাকবস।
গিভমিস্পোর্টসের এই জ্যেষ্ঠ ফুটবল প্রতিবেদক এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘আমোরিমের নিয়োগ-ভেটো নেই। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক বসদের তুলনায় যা লক্ষণীয়ভাবে ভিন্ন। তবে তার আগমনের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফুটবল-কাঠামোয় বিবর্তনও ফুটে উঠেছে।’
জ্যাকবস তার পোস্টের সপক্ষে আরেকটি তথ্য তুলে ধরেছেন। ইউনাইটেড আমোরিমকে নিয়োগের বিষয়ে যে বিবৃতি দিয়েছে, সেখানে তাকে ‘ম্যানেজার’ উল্লেখ করা হয়নি, বলা হয়েছে ‘প্রধান কোচ’।
২০১৩ সালে স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন অবসর নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত পাঁচজন কোচ ইউনাইটেডের ডাগআউটের দাঁড়িয়েছেন। ডেভিড ময়েজ, লুই ফন গাল, জোসে মরিনিও, ওলে গুনার সুলশার ও এরিক টেন হাগ—এঁদের সবার পদবি ছিল ‘ম্যানেজার’। প্রিমিয়ার লিগের বেশির ভাগ ক্লাবেরই প্রধান কোচই আসলে ‘ম্যানেজার’, যার দায়িত্বের আওতা কোচের চেয়ে বেশি।
ইউনাইটেড যে পরে প্রচলিত ‘ম্যানেজার’ পদবি থেকে সরে আসবে, সে ইঙ্গিত অবশ্য জুনেই পাওয়া গিয়েছিল। গত বছর স্যার জিম র্যাটক্লিপ ইউনাইটেডের মালিকানায় যুক্ত হওয়ার পর দলটির দেখভাল করছে ইনিওস গ্রুপ। ব্যবসায়ী গোষ্ঠীটি দল পরিচালনা, খেলোয়াড় বেচাকেনা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের বিষয়গুলো ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিকে দিয়ে চালাতে চায়। এরই অংশ হিসেবে জুনে টেন হাগকে খেলোয়াড় কেনায় তাঁর ভেটো ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছিল। যদিও এটি তখন কার্যকর করা হয়নি।
একজন ম্যানেজার শুধু অনুশীলন পরিচালনা, ম্যাচের কৌশল প্রণয়ন ও ডাগআউটেই দাঁড়ান না। কোন খেলোয়াড়কে কিনবেন, কাকে বিক্রি করে দেবেন—এ ধরনের সিদ্ধান্তও নিয়ে থাকেন। তাঁকে সহযোগিতা করেন ক্লাবের ক্রীড়া পরিচালক ও স্কাউট দল। এ ক্ষেত্রে একজনকে দলে নেওয়া বা না নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ম্যানেজারেরই, যেটিকে ‘ভেটো ক্ষমতা’ অভিহিত করা হয়।
আগস্টে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষ দিনে টেন হাগই যেমন ক্রিস্টিয়ান এরিকসেন এবং অ্যান্টনিকে ধারে পাঠানোর প্রক্রিয়া আটকে দিয়েছিলেন। ভেটো দেওয়ার এই ক্ষমতাটাই পাবেন না ‘প্রধান কোচ’ পদবির আমোরিম। এমনিতে অন্য কোচদের মতোই খেলোয়াড় কেনাবেচার বিষয়ে নিজের মতামত দিতে পারবেন। কর্তৃপক্ষকে তাগাদা দেওয়া বা প্ররোচিতও করতে পারবেন।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুসারে, ইউনাইটেডে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করবেন প্রধান নির্বাহী ওমর বেরাদা ও ক্রীড়া পরিচালক ড্যান অ্যাশওয়ার্থ। লক্ষ্য হচ্ছে, ক্লাব যেন নির্দিষ্ট কোনো ম্যানেজার বা কোচের আদলে গড়ে না ওঠে। ব্যক্তির পরিবর্তন ঘটলেও মূল কাঠামো ও লক্ষ্য যাতে একই থাকে।
৩৯ বছর বয়সী আমোরিমকে অবশ্য শুরুতে ভিন্ন এক চ্যালেঞ্জই মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, ক্লাবের বর্তমান খেলোয়াড়দের কেউ কেউ টেন হাগের পছন্দে আনা, কেউবা আবার ডাচ লিগে খেলে আসা। যদিও কোচিং স্টাফ নিজের পছন্দেই সাজাতে পারবেন এই পর্তুগিজ। খেলোয়াড় কিনতে পারবেন সামনের জানুয়ারির দলবদল থেকেই। তবে ভেটো ক্ষমতা থাকছে না, এই যা ঘাটতি!