ভারতকে ২৫ রানে হারিয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে করেছে ধবলধোলাই। নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো ঘরের মাঠে ধবলধোলাই হলো ভারত। ২০০০ সালে একমাত্র দল হিসেবে ভারতকে ওদেরই মাটিতে ধবলধোলাই করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেটি ছিল দুই ম্যাচের সিরিজ। তিন ম্যাচের সিরিজে এবারই প্রথম।
বেঙ্গালুরুতে ৪৬ রানে অলআউট হওয়া ভারতীয় দল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ের ২২ গজে চতুর্থ ইনিংসে কত রান করতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় ছিলই। রবিবার সেই সংশয়ে সিলমোহর দিলেন রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলির মতো ভারতীয় ক্রিকেটের মহারথীরা। নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৪৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ঘরের মাঠে ভারতীয় ব্যাটারেরা সাজঘরে ফেরার শোভাযাত্রা তৈরি করলেন। দলের ব্যাটিং ধস সামলে একা লড়াই করলেন রিশাভ পান্থ। তার ৬৪ রানের ইনিংস শেষ হল বিতর্কিত সিদ্ধান্তে। লাভ হল না অবশ্য। ২৪ বছর পর দেশের মাঠে টেস্ট সিরিজে চুনকাম হল ভারতীয় দল। নিউজিল্যান্ডের কাছে তৃতীয় টেস্ট হারল ২৫ রানে। ১২১ রানেই শেষ হয়ে গেল রোহিতদের ইনিংস।
বিশ্বের এক নম্বর টেস্ট দল! বিশ্বাস করা যাচ্ছে না। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ফেরা রোহিত শর্মারা ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে সহজে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিলেন। সেই আত্মবিশ্বাসের আড়ালে ক্রিকেটীয় দক্ষতায় যে মরচে ধরে গিয়েছে, তা সম্ভবত বুঝতে পারেননি রোহিত, বিরাট কোহলিরা। ভারতীয় দলের দুই সিনিয়র ব্যাটারই সিরিজে অবিবেচকের মতো নিজেদের উইকেট ছুড়ে দিয়েছেন।
সেই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে যশস্বী জয়সওয়াল, শুবমান গিল, সরফরাজ খানদের মতো জুনিয়রদের মধ্যেও। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটারেরা দায়িত্বজ্ঞানহীন ক্রিকেটের যে প্রদর্শনী সাজালেন, তাতে টেস্ট বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন না দেখাই নিরাপদ হতে পারে।
ওয়াংখেড়ে রোহিত, যশস্বী, সরফরাজদের ঘরের মাঠ। প্রতিটি ঘাস তাদের চেনা। সেই ২২ গজে তিন জনে এমন ভাবে আউট হলেন, তা অবিশ্বাস্য। রোহিত (১১) এবং সরফরাজ (১) অকারণ আগ্রাসী হতে গিয়ে উইকেট ছুড়ে দিলেন। যশস্বী (৫) বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ হলেন। শুবমান (১) এজাজ প্যাটেলের বলে জাজমেন্ট দিয়ে বোল্ড হলেন। কোহলি (১) ধরা পড়লেন এজাজেরই স্পিনে।
৭.১ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২৯। কারো মধ্যে টেস্ট ইনিংস খেলার ন্যূনতম ধৈর্য্য দেখা গেল না! সে সময় ৪৬ রানের ‘কীর্তি’ টপকে যাওয়া অসম্ভব মনে হচ্ছিল না। পন্থ এবং রবীন্দ্র জাডেজা সেই লজ্জার হাত থেকে রক্ষা করলেন ভারতীয় ক্রিকেটকে। ব্যাটিং ধসে কঠিন হয়ে যাওয়া রাস্তায় দলের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন তারা। চাপের মুখে গুটিয়ে থাকেননি পন্থ। প্রয়োজনে আগ্রাসী শট খেলেছেন। জাডেজা ২২ গজের এক দিন আগলে রেখেছিলেন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নেওয়া বাঁহাতি অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে বেশ সাবধানী ছিলেন। অন্য উপায় অবশ্য তার সামনে ছিল না। তাও বেশি ক্ষণ টিকতে পারলেন না। জাদেজাকেও (৬) আউট করলেন অজাজ। আট নম্বরে ব্যাট করতে নামা ওয়াশিংটন সুন্দরের ব্যাটিংয়ে চাপের ছাপ ছিল স্পষ্ট।
পন্থের লড়াই শেষ হল ৬৪ রানে। এজাজের বলে ক্যাচের আবেদন করে নিউজিল্যান্ড। মাঠের আম্পায়ার আউট দেননি। রিভিউ নেন টম লাথাম। রিপ্লেতে দেখা যায় ব্যাট একই সঙ্গে পান্থের প্যাড এবং বলের কাছে এসেছে। আত্মবিশ্বাসী পান্থ দাবি করেন বল তার ব্যাটে লাগেনি। ব্যাট এবং প্যাডের সংঘর্ষের শব্দ ধরা পড়েছে স্নিকোমিটারে। কিন্তু তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সাজঘরে ফিরতে হয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটারকে। এর পর আর কেউই চাপ সামলাতে পারেননি। রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৮), আকাশ দীপ (শূন্য), ওয়াশিংটনেরা (১২) পর পর আউট হয়ে গেলেন।
মুম্বাইয়ের ২২ গজে আবারও বিপজ্জনক হয়ে উঠলেন এজাজ। প্রথম ইনিংসের পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট নিলেন নিউ জ়িল্যান্ডের ভারতীয় বংশোদ্ভুত স্পিনার। ৫৭ রানে ৬ উইকেট নিলেন তিনি। তার স্পিন সামলাতে পারেননি ভারতীয় ব্যাটারেরা। এ ছাড়া গ্লেন ফিলিপস ৪২ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। তার বল খেলতেও সমস্যায় পড়েছেন ভারতীয় ব্যাটারেরা। ১০ রানে ১ উইকেট ম্যাট হেনরির।