কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে মুমিন নারীর বেশকিছু গুণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রত্যেক মুমিন নারীর জীবনে এ গুণগুলো থাকা অত্যন্ত জরুরি। একজন নারীর এ গুণগুলো থাকলে পৃথিবীতে শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে পারবে এবং পরকালেও সফল হতে পারবে। কোরআন-হাদিসে বর্ণিত মুমিন নারীর কয়েকটি গুণ উল্লেখ করা হলো।
সতী-সাধ্বী হওয়া : দ্বীনদার ও সতী-সাধ্বী নেককার হওয়া মুমিন নারীর প্রথম ও প্রধান গুণ। কোরআনে মহান আল্লাহ ‘সালিহাতুন’ তথা দ্বীনদার সতী-সাধ্বী গুণের অধিকারী হিসেবে নারীকে উল্লেখ করেন। নেককার নারীদের সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত সাওবান (রা.) বর্ণনা করেন, স্বর্ণ-রুপা সম্পর্কিত আয়াত নাজিল হওয়ার পর রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কোন ধরনের মাল সঞ্চয় করব? তিনি বললেন, তোমাদের প্রত্যেকেই যেন সঞ্চয় করে কৃতজ্ঞ অন্তর, জিকিরকারী মুখ এবং পরকালীন কর্মকাণ্ডে সহায়তাকারী মুমিন নারী। (জামে তিরমিজি) আয়াত ও হাদিস থেকে নারী সৎ ও চরিত্রবান হওয়া প্রমাণিত হয়েছে।
লজ্জা ও শালীনতা : লজ্জা ও শালীনতা মানুষের ব্যক্তিত্বের মূলভিত্তি। শালীনতা মুমিন নারীর মর্যাদা বৃদ্ধি করে। কোরআনে আল্লাহ একজন নারীর শালীন আচরণের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘তখন নারীদ্বয়ের একজন লজ্জাজড়িত পায়ে তার কাছে এলো।’ (সুরা কাসাস ২৫) অন্যত্র আল্লাহ বলেন, ‘তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের জন্য সজোরে পা না ফেলে।’ (সুরা নুর ৩১) আয়াতদ্বয়ে পর্দা ও শালীনতা বজায় রেখে নারীর জীবনযাপনের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে।
চারিত্রিক পবিত্রতা : অশ্লীলতা, অনৈতিকতা ও অমার্জিত আচরণ থেকে বেঁচে থাকা এবং চারিত্রিক পবিত্রতা রক্ষায় আল্লাহ নারীদের সংযত চলাফেরা, দৃষ্টি অবনত রাখা ও লজ্জাস্থান হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন নারীকে বলুন, তারা যেন দৃষ্টি অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থান হেফাজত করে।’ (সুরা নুর ৩১) অবৈধ প্রেমসহ অনৈতিক সব আচরণ থেকে বিরত থাকে মুমিন নারী। সুরা নুরের এ আয়াত থেকে এ কথা দৃঢ়ভাবে প্রমাণিত হয়।
স্বামীর অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টিকারী : নারীরা হবে তার স্বামীর হৃদয়ের প্রশান্তিদায়ক। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে ‘তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের ভেতর থেকে সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও। তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা রুম/২১) প্রকৃত মুমিন ও জান্নাতি নারী তো সে, যার প্রতি স্বামী তাকালে স্বামীর মন জুড়িয়ে যায়। এ জন্য নারীকে হতে হয় পতিভক্ত। বৈধ আদেশের আনুগত্যশীল।
দ্বীনদারিতায় সহযোগিতা : একজন মুমিন নারী স্বামীকে দ্বীনদারির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) একবার রাসুল (সা.)-এর কাছে আবেদন করলেন, আমরা যদি জানতাম কোন সম্পদ সর্বোত্তম যা আমরা অর্জন করব! তখন রাসুলল্লাহ (সা.) বললেন, সর্বোত্তম সম্পদ হলো, জিকিরকারী জিহ্বা, শোকর গোজার অন্তর এবং মুমিন স্ত্রী, যে তার স্বামীকে তার ইমানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। (জামে তিরমিজি) এ হাদিসে নারীকে পুরুষের কাছে খুব গুরুত্বের জিনিস হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সম্পদ অর্জনের জন্য যেমন সাধনা প্রয়োজন, তেমনি উত্তম স্ত্রী পাওয়ার জন্যও পুরুষকে সৎ ও চরিত্রবান হওয়া জরুরি।
সতীত্ব ও সম্পদের হেফাজতকারী : মুমিন নারীর আরেকটি অন্যতম গুণ হলো সতীত্ব ও সম্পদের হেফাজত করা। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন ‘নিজের সতীত্বের হেফাজত করা এবং স্বামীর (অনুপস্থিতিতে) ধন-সম্পদ হেফাজত করা।’ চরিত্র নারীর অলঙ্কার। ওপরের আয়াত থেকে এ কথাই প্রমাণিত হয়েছে। একজন মুমিন নারী যার তার কাছে নিজের সতীত্ব তুলে দিতে পারে না। অশ্লীলতায় গা ভাসিয়ে চলতে পারে না। বৈবাহিক সম্পর্ক ছাড়া জৈবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে না। এভাবেই মুমিন নারী নিজের সতীত্বকে রক্ষা করে চলে।