সিংগাইরে আলোচিত ৪ হত্যাকাণ্ড

সাবেক এমপি মমতাজের নামে আরও একটি হত্যা মামলা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার গোবিন্দল গ্রামে ২০১৩ সালের আলোচিত ৪ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক এমপি কণ্ঠ শিল্পী মমতাজ বেগমের বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাটি করেন নিহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী গোবিন্দল মোল্লাপাড়া গ্রামের মো. রফেজ উদ্দিনের মেয়ে রাফেজা (৩৭)।

এর আগে গত অক্টোবর মাসে আলাদাভাবে দুটি মামলা দায়ের করেন দুই নিহতের দুই স্বজন। এ মামলায় আরও আসামি করা হয়েছে তৎকালীন মানিকগঞ্জ সদর সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার,ডিবি পুলিশের একাধিক পরিদর্শক, ৩৭ পুলিশ সদস্যসহ ৮২ জন এবং অজ্ঞাত ২৫ জনসহ সব মিলিয়ে ১০৭ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (৪ নভেম্বর) সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সিংগাইরে হত্যাটি মামলাটি দায়ের হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ২০১৩ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি আনুমানিক সকাল ১০টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত সময়ে ইসলাম ও সমমনা দল সমূহের পূর্ব ঘোষিত সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন কালে সিংগাইর গোবিন্দল নতুন বাজার চার রাস্তার মোড়ে হেমায়েতপুর টু মানিকগঞ্জগামী আঞ্চলিক মহাসড়কে হরতালের সমর্থনে শতশত ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমাবেশ জনস্রোতে পরিণত হলে চরম ইসলাম বিদ্বেষী ও বিগত স্বৈরশাসক সরকার দলীয় আসামিদের ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আলমগীর, নাসির, নাজিমুদ্দিন মোল্লা ও শাহ আলমসহ চারজন নিহত হন।

এ মামলায় অন্যান্য আসামি হলেন, মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বলধরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মাজেদ খান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান ভিপি শহিদ (৫০) ,সদ্য বিদায়ী উপজেলা চেয়ারম্যান সায়েদুল ইসলাম (৫০)। 

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রমজান আলী চেয়ারম্যান, শওকত হোসেন বাদল, সিংগাইর দলিল লেখক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম পলাশ (৪০) সহ ৮২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়া আসামি পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন, তৎকালীন দায়িত্ব থাকা মানিকগঞ্জ সদরের সার্কেল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল আলম, মদন মোহন বণিক, মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম, সিংগাইর থানার এস আই আদিল মাহমুদ, মোজাম্মেল হোসেনসহ ৩৭ জন।

আলোচিত হত্যা মামলার বাদী নিহত আলমগীর হোসেনের স্ত্রী রাফেজা’র মামলায় অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ দায়িত্ব পালন না করে উল্টো তারাই পুলিশের পোশাক পরিধান করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে হত্যাকাণ্ডে অবৈধভাবে অংশগ্রহণ করেন। 

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামীর দাফন কাফনের কাজে ব্যস্ত থাকায় আমার পক্ষে মামলার স্বাক্ষী মিঠু চেয়ারম্যান এজাহার দায়ের করতে থানায় গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে উল্টো হুমকি দিয়ে বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে মামলায় আসামি করে চালান দিয়ে দিব। তিনি ভয়ে থানা হতে দ্রুত চলে আসেন।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পৃথক তিনটি হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।