সহিংসতার শঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার

বরাবরের মতো এ বছরও মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে রয়েছে হামলা, সহিংসতা ও ষড়যন্ত্রের উদ্বেগ। এবারের নির্বাচনের আগেই ব্যালট বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সাবেক এক রিপাবলিকান রাজনীতিককে ব্যালট চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। এমনকি এ নির্বাচনের আগে সর্বোচ্চ সংখ্যক মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্বাচনী অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগের কারণে যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় বিশেষ নিরাপত্তামূলক সতর্ক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে।

ভোটকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো সহিংস ঘটনা না ঘটে, সে লক্ষ্যে আলাবামা, অ্যারিজোনা, ডেলাওয়ার, আইওয়া, ইলিনয়, নর্থ ক্যারোলিনা, নিউ মেক্সিকো, ওরেগন, উইসকনসিন ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন ডিসি, কলোরাডো, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, নেভাডা, ওরেগন, পেনসিলভানিয়া, টেনেসি, টেক্সাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ন্যাশনাল গার্ডের সেনা যেকোনো মুহূর্তে মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সে কারণে ভোটের দিন ও ভোটের পরে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছেন। সাত দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যের ফলই নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট কে হবেন এ বিষয়টি একরকম নিশ্চিতই। এ কারণে এসব অঙ্গরাজ্যকে বাড়তি নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এমনই এক দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্য নেভাডা। ২০২০ সালের নির্বাচনের পর ট্রাম্পের সমর্থকরা সেখানে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন। নেভাডার লাস ভেগাসের ভোট তালিকাভুক্ত করার কেন্দ্র ঘিরে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। ন্যাশনাল গার্ডের ৬০ সদস্যের একটি দল এই বেষ্টনীর দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছেন নেভাডার গভর্নর। একই ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে অ্যারিজোনার ফিনিক্সের মারিকোপা কাউন্টিতেও। দেশটির সবশেষ নির্বাচনে এখানে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তা মজবুত করতে কোনো কোনো ভোটকেন্দ্র ঘিরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। সহিংসতার উদ্বেগ থেকে অ্যারিজোনার বেশ কয়েকটি স্কুল ও গির্জা এবার ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচনী কর্র্তৃপক্ষ।

সম্ভাব্য সহিংসতা মোকাবিলায় অ্যারিজোনায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেখানে ড্রোন ও স্নাইপার নিয়ে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে পুলিশ। মারিকোপা কাউন্টির পুলিশের কর্মকর্তা রাস স্কিনার বলেছেন, নিরাপত্তার জন্য পুলিশ কর্মকর্তারা ভোটকেন্দ্রের ওপর নজর রাখবেন। এ কাজে তারা ড্রোন ব্যবহার করবেন। সহিংসতা দেখা দিলে তা মোকাবিলার জন্য স্নাইপার প্রস্তুত থাকবে। এদিকে নির্বাচনকর্মীদের ওপর বোমা হামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জর্জিয়ায় একজন নির্বাচনকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন।