জজ আদালতে করা একটি মামলার তদন্তকাজ নিজেদের অনুকূলে না যাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন মোবারককে পিটিয়েছেন কয়েকজন বিএনপিকর্মী। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির আট কর্মীকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। এদিকে শিক্ষা কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতম সাহার নেতৃত্বে পৌরশহরে মানববন্ধন হয়েছে। মানববন্ধনে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, চাকরির নিরাপদ পরিবেশের দাবি করেছেন উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা মেহেরপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন গ্রুপের লোক।
হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামিরা হলেন গাংনী পৌরসভার শিশিরপাড়ার বসির (৩৫), গাফার আলী (৩৭), ঈমান আলী (২৯), জনি (৩৬), সুমন (৩৫), ইয়ামিন আলী (৩৭), সাইদুল ইসলাম (৩৭) ও চান্দু ( ৩৬)।
ভুক্তভোগী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে মোবারক জানান, জজ আদালতে করা একটি মামলার তদন্তকাজ নিজেদের অনুকূলে না যাওয়ায় গত সোমবার তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন কর্মী। হঠাৎ হামলার ঘটনায় তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
গাংনী থানার ওসি বানী ইসরাইল জানান, বিষয়টি মেহেরপুরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর টিম ও র্যাব-১২ ক্যাম্প ইনচার্জ আশরাফুল হককে জানানো হয়। পরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ শুরু করেছে।
এদিকে এ ঘটনার বিচার দাবি করে গত মঙ্গলবার মানববন্ধন করেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীতম সাহা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন, ভুক্তভোগী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসনে মোবারক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রীতম সাহা বলেন, ‘মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনায় পুরো প্রশাসন মর্মাহত এবং ক্ষুব্ধ। গত দুই মাসে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। বহিরাগতদের হাতে আমরা বারবার লাঞ্ছিত হচ্ছি। ইতিমধ্যেই পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছি। এবার প্রশাসনের সব দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছেন।’
হামলার ঘটনায় বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেন, ‘ঘটনাটি শোনা মাত্র ইউএনওকে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছি। যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তারা বিএনপির কর্মী বলে শুনেছি। তাদের পদপদবি থাকলে তৎক্ষণাৎ দল থেকে বহিষ্কার করতাম। দলের পরিচয় দিয়ে কেউ কোনো অঘটন ঘটিয়ে ফেললে দল তার দায়িত্ব নেবে না।’