বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) সংলগ্ন দেড় কিলোমিটার সড়কে গত ছয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ঘন ঘন দুর্ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও পথযাত্রীরা বলছেন, সড়কটি দিনদিন একটি মরণপথে পরিণত হচ্ছে।
সড়কটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত নানা কাজে সড়কটি ব্যবহার করতে হয় শিক্ষার্থীদের। প্রায় দেড় কিলোমিটারের এ সড়কটি শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত সেতু ও খয়রাবাদ সেতুর মধ্যে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি দুটি সেতুর গোড়ায় অবস্থিত হওয়ায় সেতু দুটির ও রাস্তার সংযোগস্থানটির ঢাল এবং বাঁকের কারণে গাড়ি চলাচল নিয়ন্ত্রণহীন। সড়কটিতে পর্যপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। দুপাশে চলাচলের জন্য নেই ফুটপাতও। স্পিড ব্রেকার থাকলেও নেই পরিচর্যা।
গত ৩০ অক্টোবর রাত ৯টায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাইশা ফওজিয়া মিম নারায়ণগঞ্জ ট্রাভেলসের ধাক্কায় নিহত হন। এর তিন দিন পর ২ নভেম্বর একই সড়কে একটি বাইক দুর্ঘটনায় সিফাত নামে এক কিশোর আহত হন। পরে ৩ নভেম্বর হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। এর দুদিন পর ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কে অবস্থিত খয়রাবাদ সেতুর ঢালে বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে ইউনুস বিশ্বাস নামে বাউফল উপজেলার নওমালা হাইস্কুলের সাবেক গণিত শিক্ষক নিহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী সড়ক ও জনপদ বিভাগ দেড় কিলোমিটারের এ সড়কে নতুন করে তিনটি স্পিড ব্রেকারসহ ছয়টি স্পিড ব্রেকার স্থাপন করেছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর মধ্যে রয়েছে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, রেলিংসহ ফুটপাত, স্পিড ব্রেকার ও রাম্বল স্ট্রিপ স্থাপন, জেব্রা ক্রসিং, গতিসীমা নির্ধারণ এবং মহাসড়কে পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাজমুজ সাকিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘উপাচার্যরা আসেন-যান, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দেন। কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। এবারও একই অবস্থা, দেখা যাক কতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারে।’
গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের এরিয়ায় যানচলাচলের গতিসীমা যাতে ২০ কিমির বেশি না হয়, সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে এবং রাতে রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি যারা এই নিয়ম মানবে না, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভোলা রোডের চা দোকানি শাহ জালাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাতে আলোর ব্যবস্থা নেই। সড়কে মানুষ পারাপার হলে তা দেখা যায় না। অন্ধকারের জন্য এসব দুর্ঘটনা বেশি হয়।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী আমরা ইতিমধ্যে স্পিড ব্রেকার স্থাপন করেছি। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সড়কে নিরাপত্তার জন্য সবকিছু করব। তবে রাস্তা পারাপারের সময় আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে, যেহেতু এটি ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক। আর লাইটিংয়ের বিষয়টি আমাদের না, এটা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বললে আশা করি সমাধান হবে।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শুচিতা শরমিন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আমরা ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নিয়েছি। তারপরও আমি বলব, দুর্ঘটনা রোধে শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং সাধারণ পথচারীরা যাতে রাস্তা পারাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করেন।’