বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে বিএনপি। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার উপযুক্ত সময়ে নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে।’
গতকাল সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোয় দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। ১০টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হয়। আজ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টন থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি করবে দলটি।
অন্তর্বর্তী সরকারের তিন মাস হলো। সরকার কি কার্যকর ভূমিকা রাখছে? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবশ্যই কার্যকর ভূমিকা রাখছে তারা। ইতিমধ্যে তারা অনেকগুলো কাজ করেছে এবং কাজ করছে। আমরা সবাই সরকারকে সহযোগিতা করি। আশা করি, তারা উপযুক্ত সময়ে নির্বাচন দিতে সক্ষম হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে ধ্বংস করার জন্য সব সময় ষড়যন্ত্র করেছে, অত্যাচার করেছে, নির্যাতন করেছে। এই আওয়ামী লীগ প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ৭০০ মানুষকে গুম করে। এরা হাজার হাজার মানুষকে গুম ও খুন করে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা এবং একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে। আল্লাহর রহমতে ২০২৪ সালে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো আধিপত্যবাদকে এবং ফ্যাসিস্টদের পরাজিত করা হয়। আজকে আমরা শপথ নিয়েছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আধিপত্যবাদকে রুখে দেব। এর জন্য প্রয়োজনে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তুলব।’
৭ নভেম্বরের গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সৈনিক ও জনতা দ্বিতীয়বারের মতো এ দেশে আধিপত্যবাদকে ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাদের পরাজিত করে জিয়াউর রহমানকে সামনে নিয়ে এসে তারা নতুন এক রাজনীতির সূচনা করে। সেই রাজনীতি ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রাজনীতি, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদকে পরাজিত করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রাজনীতি। তারই ধারাবাহিকতায় ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে পুরো পরিবর্তন করে দেন। তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থাকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়ে আসেন। রুদ্ধবদ্ধ অর্থনীতিকে মুক্তবাজার অর্থনীতিতে পরিণত করেন। সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশে একটা নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি করেন এবং তারই প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনকে প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘকাল সংগ্রাম করছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ইতিমধ্যে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ক্ষমতায় এসেছে তিনবার। এখনো বিএনপি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করছে।’
৭ নভেম্বরের এই কর্মসূচিতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহ উদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা হাবীব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আমিনুল হক, দক্ষিণের রফিকুল আলম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
দিবসটি পালনের লক্ষ্যে জিয়াউর রহমানের ছবি-সংবলিত পোস্টার প্রকাশ করেছে বিএনপি। গত বুধবার বিকেলে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভার্চুয়ালি উপস্থিতিতে আলোচনা সভা করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় এফডিসির সামনে এবং সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন-জাসাসের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে অন্যান্য জেলায়ও শোভাযাত্রা হবে আজ শুক্রবার। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা এবং অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে সুবিধামতো সময়ে। জাসাসের উদ্যোগে বিভাগীয় শহরগুলোতেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হয়েছে।
আজ র্যালি : জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার বর্ণাঢ্য র্যালি করবে বিএনপি। এদিন দুপুর আড়াইটায় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র্যালিটি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দলটির সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, র্যালি বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাকরাইল-কাকরাইল মসজিদ-মৎস্য ভবন-ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট-শাহবাগ-হোটেল শেরাটন-বাংলা মোটর-কারওয়ান বাজার ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে।
কর্মসূচিতে দলের জাতীয় নেতারাসহ সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থককে যথাসময়ে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোয় র্যালি অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেবেন।
১৬ বছর পর বগুড়ায় প্রকাশ্যে ৭ নভেম্বর পালন : দীর্ঘ ১৬ বছর পর নানা আয়োজনে বগুড়ায় প্রকাশ্যে ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছেন জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা। দিবসটি দৃষ্টিনন্দন করতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় সাঁজোয়া যান, হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, পালকিসহ নানা বিষয় স্থান পায়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে জলেশ্বরীতলা, শেরপুর রোড, সাতমাথা, থানার মোড়, বড়গোলা, ফতেহ আলী বাজার হয়ে দলীয় কার্যালয়ের নবাববাড়ী সড়কের পুলিশ প্লাজার সামনে এসে শেষ হয়। এর আগে সকাল ১০টায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা মিছিল নিয়ে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে একত্র হন। শোভাযাত্রার আগে জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।