জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলজ তার মন্ত্রিসভার অর্থমন্ত্রীকে বরখাস্তের পর দেশটির ক্ষমতাসীন জোট সরকারের পতন ঘটেছে। এর ফলে দেশটিতে আগাম নির্বাচনের পথ খুলে গেছে। গত বুধবার দেশটির অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডনারকে বরখাস্ত করেন শলজ। এফডিপি দলের প্রধান ও জোট সরকারের অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডনার জার্মানির অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে আছে করপোরেট কর কমানো, জলবায়ু নীতি সহজ করা এবং সামাজিক ভাতা কমানো। তবে এসব বিষয়ে একমত হওয়া শ্রমিকবান্ধব দল এসপিডি ও পরিবেশবান্ধব দল গ্রিন পার্টির জন্য কঠিন। এসব বিষয়ে একমত হতে না পারার কারণেই লিন্ডনারকে বরখাস্ত করেন শলজ।
বাজেটনীতি ও জার্মানির অর্থনীতির গতিমুখ নিয়ে শলজের তিনদলীয় জোট সরকারের মধ্যে কয়েক মাস ধরে বিবাদ চলছিল। জার্মানির সামাজিক গণতান্ত্রিক দল এসপিডির নেতা ওলাফ শলজের নেতৃত্বে ২০২১ সালে জোট সরকার গঠন করেছিল ব্যবসাবান্ধব দল এফডিপি ও পরিবেশবান্ধব দল গ্রিন পার্টি। এর আগে গত জুলাই মাসেও একবার এ সরকার ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আগামী বছরের মার্চের শেষের দিকে আগাম ভোট আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শলজ। আগামী ১৫ জানুয়ারি পার্লামেন্টে আস্থা ভোট চাইবেন তিনি। শলজ জানিয়েছেন, বাজেট নিয়ে বিতর্কের মধ্যে লিনডনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী মনোভাবের জন্য তাকে পদচ্যুত করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে দেশের চেয়েও দলকে প্রাধান্য দেওয়া ও মিথ্যা অজুহাতে আইন আটকে দেওয়ার অভিযোগ করেন জার্মান চ্যান্সেলর। সাংবাদিকদের শলজ বলেন, ‘আমাদের এমন একটি সরকার দরকার, যারা কাজ করতে পারবে, আমাদের দেশের জন্য যারা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।’ কিছুদিনের জরিপে দেখা যাচ্ছিল, শলজ সরকারের জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী আর কট্টর ডানপন্থি আর কট্টর বামপন্থিদের শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সবশেষ জরিপে জোট সরকারের অংশীদার তিন দলের জনপ্রিয়তা বেশ নিচে নেমে যাওয়ার আভাস পাওয়া গেছে। এখন নির্বাচন হলে এফডিপি দল সংসদে যাওয়ার জন্য অন্তত ৫ শতাংশ ভোট পাওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা পাবে কি না সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। আর এসপিডি ও গ্রিন পার্টিও ২০২১ সালের তুলনায় অনেক কম ভোট পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প জয়ী হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটিতে এ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার সূচনা হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অস্থিরতা ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিকে আঘাত করেছে। এটি একটি টেকসই মন্দার সঙ্গে জড়িত। হোয়াইট হাউজে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর জার্মানির বাণিজ্য ও সুরক্ষা সম্পর্কের ওপর এই সংকট প্রভাব ফেলবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।