মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে জাতিসংঘ। ফলে রাজ্যটিতে বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি। গত বৃহস্পতিবার ইউএনডিপি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই শঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। ইউএনডিপি বলেছে, জরুরি পদক্ষেপ না নিলে রাজ্যটির প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ জীবন রক্ষার লড়াইয়ের মুখে পড়বে।
রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতিকে অভূতপূর্ব দুর্যোগ উল্লেখ করে সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্য পরিবহন নিষেধাজ্ঞা, চরম মূল্যস্ফীতি, জীবিকার ক্ষতি, কৃষি উৎপাদন হ্রাস এবং জরুরি সেবার অভাবে নাজেহাল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ইউএনডিপি জানিয়েছে, রাখাইনের অর্থনীতি প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সামরিক জান্তার আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো সেখানে ‘সমষ্টিগত শাস্তি’ হিসেবে কাজ করছে। এর ফলে রাজ্যটির বাণিজ্য, কৃষি এবং নির্মাণ খাত প্রায় স্থবির হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় রাখাইনসহ গোটা মিয়ানমারের তরুণ সমাজের মধ্যে দেশত্যাগের প্রবণতা বাড়ছে, যা মানব পাচারের ঝুঁকি আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউএনডিপি বলেছে, এই অভিবাসন প্রবণতা মোকাবিলা করা জরুরি, না হলে দেশটির উৎপাদনশীলতা আরও কমে যেতে পারে। ভেঙে পড়ছে মিয়ানমারের স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ব্যবস্থাও। বিশুদ্ধ পানি, পয়ঃনিষ্কাশনের মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো এখন অনেকের জন্য বিলাসিতা হয়ে উঠেছে। শিশুদের বিদ্যালয় ত্যাগের হার বাড়ছে, বিশেষ করে রাখাইন ও পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যে। ইউএনডিপি সতর্ক করে বলেছে, দক্ষ জনশক্তির অভাবে মিয়ানমারের উৎপাদনশীল সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সংকটকে আরও গভীর করবে।
ইউএনডিপি তাদের ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে, অবরোধের কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকায় মানুষের আয় কমে গেছে। একই কারণে কৃষি খাতে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ রাখাইনের অভ্যন্তরীণ খাদ্য উৎপাদন সেখানকার চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ পূরণ করতে পারবে।
ইউএনডিপি সতর্ক করে বলেছে, সংকট উত্তরণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে উৎপাদনে হ্রাস, চরম মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাপক বেকারত্ব এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে নিজেদের মতো করে টিকে থাকতে বাধ্য হবে অঞ্চলটির মানুষরা। ত্রাণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়ে মানবিক সংকটাপন্ন বিচ্ছিন্ন অঞ্চলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।