আলেম সমাজকে এখনো ব্যাপকভাবে রাজনীতি সচেতন করতে পারিনি

ইসলামি রাজনীতির অঙ্গনে মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী এক সুপরিচিত নাম। একাধারে তিনি জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের অর্থ সম্পাদক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সহকারী অর্থ সম্পাদক, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুহাদ্দিস এবং টঙ্গীর তিস্তা গেট জামে মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান রাজনীতিতে তার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেছেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বেলায়েত হুসাইন

দেশ রূপান্তর : শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ইসলামি রাজনীতিতে কি ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন এসেছে?

মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী : আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনকালে আলেমদের ওপর নানা চাপ ও সীমাবদ্ধতা ছিল। তাদের মিম্বরে বা ওয়াজের মঞ্চে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ সীমিত ছিল, যা ইসলামি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলেছিল। বর্তমান সময়ে এই বাধাগুলো কমে এসেছে। ফলে ইসলামি দলগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, যা ইসলামি রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

দেশ রূপান্তর : ইসলামি দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব কেন? সাধারণ মানুষ তো আলেমদের এক প্ল্যাটফর্মে দেখতে চায়।

মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী : ইসলামের মৌলিক বিষয়ে আমাদের ঐক্য থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দিক থেকে আলেমদের মাঝে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে। সাধারণ মানুষ এই পার্থক্যগুলোকে বড় করে দেখে। তবে আমাদের উচিত বাহ্যিক শক্তিগুলোর প্রভাব এড়াতে আরও রাজনৈতিক সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া, যাতে ইসলামি হুকুমত প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। ঐক্যের মাধ্যমে ইসলামি নেতৃত্ব জনগণের কাছে আরও বিশ্বাসযোগ্য হবে।

দেশ রূপান্তর : আপনার দল জমিয়তের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কী? আপনি কেমন বাংলাদেশ চান?

মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী : জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ আল্লাহর জমিনে আল্লাহর শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। আমরা এমন একটি দেশ চাই, যেখানে কোনো ধরনের বৈষম্য বা অবিচার থাকবে না। আর সরকার, বিচার বিভাগ ও প্রশাসন নিজ নিজ স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে পরিচালিত হবে। মেধা, দক্ষতা ও বিশ্বস্ততার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। আর চাটুকারিতা বা হলুদ সাংবাদিকতা থেকে মুক্ত একটি সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এক শক্তিশালী পরিবেশ গড়তে চাই।

দেশ রূপান্তর : রাজনীতিতে আলেমদের অবস্থান খুব একটা শক্তিশালী নয়। এর কারণ কী বলে মনে করেন?

মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী : খুব সহজ কথা, আমরা এখনো আমাদের আলেম সমাজকে ব্যাপকভাবে রাজনীতি সচেতন করে তুলতে পারিনি। যেদিন আমাদের ওলামায়ে কেরাম ও ছাত্রসমাজ ব্যাপকভাবে রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠবেন, তখন আমাদের গণসম্পৃক্ততাও এখনের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পাবে। যে দুর্বলতা দেখতে পাচ্ছেন সেটা আর থাকবে না ইনশাআল্লাহ।

দেশ রূপান্তর : আগামী জাতীয় নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে প্রার্থী হতে চান কি?

মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী : এটা শুধু আমার ইচ্ছার বিষয় নয়, বরং ফরিদপুর-১ আসনের মানুষের প্রতি আমার দায়িত্ববোধ। আমি এই অঞ্চলের সন্তান এবং তাদের পাশে থেকে তাদের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি বহু বছর ধরে। নির্বাচন করি বা না করি, ফরিদপুর-১ আসনের মানুষ আমার হৃদয়ে রয়েছেন। দল আমাকে নমিনেশন দেবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই দলের ওপর। তবে দলের যেকোনো সিদ্ধান্তে আমি আন্তরিকভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকব। আমার লক্ষ্য একটাই ফরিদপুরের মানুষের জন্য নিবেদিত থেকে তাদের জন্য কাজ করে যাওয়া।

দেশ রূপান্তর : নির্বাচিত হলে আপনার মূল লক্ষ্যগুলো কী হবে?

মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী : আমার মূল লক্ষ্য হলো বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যাতে ইনসাফ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আদর্শিক পরিবেশ সৃষ্টি করা, সমাজের দুস্থদের সহায়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে যুবসমাজকে সংহত করে জনসেবায় নিয়োজিত করা।

দেশ রূপান্তর : ভোটারদের উদ্দেশে কোনো বার্তা আছে?

মুফতি জাকির হোসাইন কাসেমী : মানুষের রুচি ভিন্ন ভিন্ন। একেক জনের কাছে একেকটি জিনিস প্রাধান্য পায়। সেভাবেই তারা ভোট দেয়। ভোটাধিকার প্রয়োগে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। আপনারা যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিন। কারণ এটি শুধু ব্যক্তিগত দায়িত্ব নয়, বরং সমাজের প্রতি আমাদের সবার এক বড় দায়িত্ব।