যুগে যুগে মহাপুরুষরা তাদের জীবনাভিজ্ঞতা থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা ছড়িয়ে দিয়েছেন বিভিন্ন উক্তির মাধ্যমে। কয়েকটি শব্দের এই কথাগুলোর তাৎপর্য অনেক গভীর।
অ্যারিস্টটল বলেছেন, ‘সুখ নির্ভর করে আমাদের নিজেদের ওপর’। আমরা মনে করি, অন্যরা আমাদের সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করে তার ওপর নির্ভর করে আমাদের সুখ। কিন্তু এই মনোভাব পোষণ করলে, আমাদের সুখের নিয়ন্ত্রণ অন্যের হাতে চলে যায়। তাদের ইশারায় বা কর্মকাণ্ডে হাসি, তাদের ব্যবহারে আমরা কষ্ট পাই। এটি প্রতিক্রিয়ানির্ভর আচরণ। কিন্তু যদি আমরা নিজেদের প্রতিক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে শিখে যাই, তাহলে অন্যের রূঢ় আচরণকেও আমরা উপেক্ষা করতে পারব আবার অন্যের অযাচিত প্রশংসাতেও আত্মনিয়ন্ত্রণ হারাব না। এর ফলে অন্যের আচরণ যাই হোক না কেন, আমরা নিজের সুখ-দুঃখকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারব। প্রকৃত সুখের সন্ধান পাওয়া যায় তখন।
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন বলেন, ‘যে ঘটনার শুরু হয় ক্রোধ দিয়ে তা লজ্জা পাওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়’। একটু খেয়াল করলেই দেখব, রাগের মাথায় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় তা সঠিক হয় না। রাগের মাথায় কাউকে কোনো কটু কথা বললে তার জন্যও আমাদের পরে ক্ষমা চাইতে হয়। এ থেকে সহজেই আমরা এই উক্তির সত্যতা অনুভব করতে পারি।
কনফুসিয়াস বলেছেন, ‘মহৎ ব্যক্তি নিজের প্রতি কঠোর হন কিন্তু দুর্বল ব্যক্তি অন্যদের প্রতি কঠোর হন’। একটু খেয়াল করলেই দেখব, দুর্বলচিত্তের মানুষরা অন্যের সমালোচনা করে কিন্তু একজন মহৎ ব্যক্তি সবসময় আত্মসমালোচনা করেন।
নাভাল রাভিকান্ত বলেছেন, ‘যদি ভুল সিদ্ধান্ত নিতে চান তাহলে সবাইকে জিজ্ঞাসা করুন’। প্রত্যেকেই যার যার অবস্থান থেকে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা জানা থাকে শুধু ভুক্তভোগী ব্যক্তির। তাই তাকেই জেনে বুঝে শুনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।