ইসরায়েলি বিমান হামলায় লেবাননের দক্ষিণ বৈরুতের উপশহরে শিশুসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। অপরদিকে, ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় আরও ৪৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
গতকাল শনিবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স ও বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে থেকে এ তথ্য জানা যায়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত শুক্রবার রাতে উপকূলীয় শহর টায়ারে দখলদার বাহিনীর হামলায় সাতজন নিহত হন। এই হামলার আগে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী শহরটির বিভিন্ন অঞ্চল খালি করার নির্দেশ দিলেও কোনো সতর্কতা জারি করেনি।
পরদিন শনিবার ঐতিহাসিক শহর বালবেকের আশেপাশে পূর্ব সমভূমি জুড়ে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত আরও ২০ জন নিহত হন। এছাড়া ইসরায়েলের হামলায় আশেপাশের শহরগুলোতে হিজবুল্লাহ এবং তার সহযোগী আমালের সঙ্গে সম্পর্কিত উদ্ধারকারী গোষ্ঠীর সাতজন চিকিৎসকসহ ১৩ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে এবং উদ্ধারকৃত দেহাংশগুলো শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত এক বছরে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আর আহত হয়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি। নিহতদের মধ্যে ৬১৯ জন নারী এবং ১৯৪ জন শিশু রয়েছে।
এদিকে আনাদোলুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় কমপক্ষে ৪৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এতে করে গত বছরের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ হাজার ৫৫২ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিরলস এই হামলায় আরও অন্তত এক লাখ ২ হাজার ৭৬৫ জন ব্যক্তিও আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় বলেছে, ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসনে ৪৪ জন নিহত এবং আরও ৮১ জন আহত হয়েছেন। অনেক মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন কারণ উদ্ধারকারীরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ মনে করছে, গাজা উপত্যকা জুড়ে ধ্বংস হওয়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও ১০ হাজারেরও বেশি লোক নিখোঁজ রয়েছেন। মূলত গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব সত্ত্বেও ইসরায়েল অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে তার নৃশংস আক্রমণ অব্যাহত রেখেছে।