কর্মব্যস্ততা মুমিনের বৈশিষ্ট্য

সফলতা অর্জনের আকাক্সক্ষা সবারই থাকে। আর সফলতা অর্জনের জন্য পরিশ্রমের বিকল্প নেই। অলস জীবন হয় ব্যর্থতায় পর্যবসিত। এটা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘মুনাফিকরা আল্লাহর সঙ্গে ধোঁকাবাজি করে, অথচ আল্লাহই তাদের ধোঁকায় ফেলে শাস্তি দেন। তারা যখন নামাজে দাঁড়ায়, তখন অলসতার সঙ্গে দাঁড়ায়।’ (সুরা নিসা ১৪২) মহানবী (সা.) অলসতা অপছন্দ করতেন। এটা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। (সহিহ মুসলিম)

আল্লাহর আদেশ : মুমিন কখনো অলস হয়ে বসে থাকে না। আলস্য কিংবা অলসতা নয়, কর্মব্যস্ততাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহতায়ালা মুমিন বান্দাদের আদেশ করেছেন, তারা যেন অলস বসে না থেকে কাজের মাধ্যমে জীবিকা অন্বেষণ করে। তিনি বলেন, ‘অতঃপর নামাজ শেষ হয়ে গেলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যাও, আল্লাহর অনুগ্রহ অন্বেষণ করো এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমুআ ১০)

মহানবীর শিক্ষা : মহানবী (সা.)-এর শিক্ষাও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার জীবন, তোমাদের কেউ যদি কাঠ সংগ্রহ করে, অতঃপর রশি দিয়ে বেঁধে পিঠে বহন করে নিয়ে আসে, এটা তার জন্য ভিক্ষা করা থেকে উত্তম।’ (সহিহ বুখারি) অন্য হাদিসে হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন , ‘এক আনসারি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে কিছু চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার ঘরে কি কিছুই নেই? সে বলল, একটা কম্বল আছে। যার একাংশ আমরা গায়ে দিই এবং অপরাংশ (বিছানা হিসাবে) বিছাই। আরেকটা পানপাত্র আছে, যা দিয়ে আমরা পানি পান করি। রাসুলুল্লাহ (সা.) সেগুলো নিয়ে আসতে বললেন। অতঃপর তিনি তা হাতে নিয়ে বললেন, এই জিনিস দুটো কে কিনবে? এক ব্যক্তি বলল, আমি এক দিরহামের বিনিময়ে কিনতে পারি। মহানবী (সা.) বললেন, এরচেয়ে বেশি মূল্য কে দেবে? এক ব্যক্তি দুই দিরহামের বিনিময়ে সেগুলো কিনে নিল। তিনি আনসারিকে দিরহাম দুটো দিয়ে বললেন, এর একটি দিয়ে খাদ্য কিনে তোমার পরিবারের লোকদের দিয়ে এসো। অপরটি দিয়ে কুড়াল কিনে আমার নিকট নিয়ে এসো। মহানবী (সা.) নিজ হাতে সে কুড়ারে হাতল লাগিয়ে বললেন, যাও জঙ্গল থেকে কাঠ সংগ্রহ করো। সে কাঠ সংগ্রহ করে বিক্রি করতে লাগল। অতঃপর যখন সে মহানবী (সা.)-এর কাছে এলো, তখন তার কাছে দশ দিরহাম সঞ্চিত ছিল। তিনি তাকে বললেন, এর কিছু দিয়ে কাপড় আর কিছু দিয়ে খাদ্য কিনে নাও। ভিক্ষার কারণে কেয়ামত দিবসে তোমার মুখমণ্ডলে অপমানের চিহ্ন থাকার চেয়ে এটা তোমার জন্য উত্তম।’ (সুনানে আবু দাউদ)