সমুচা নিয়ে চমকপ্রদ এক ঘটনা ঘটেছে ভারতের হিমাচল প্রদেশে। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর জন্য পর্যটন হোটেল থেকে আনা হয়েছিল সমুচা ও কেক। কিন্তু সেসব নাকি খেয়ে ফেলেছেন তার নিরাপত্তাকর্মীরা। আর না নিয়েই হুলস্থুল কাণ্ড শুরু হয়েছে হিমাচল প্রদেশে। এমনকি সমুচা বিভ্রাটে জড়িত সিআইডির উপপরিদর্শক, নারী পরিদর্শকসহ পাঁচ গোয়েন্দা পুলিশকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এনডিটিভি জানিয়েছে ঘটনাটি ঘটেছে গত ২১ অক্টোবর। ওইদিন মুখ্যমন্ত্রী সিআইডির সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন একটি সাইবার উইং স্টেশন উদ্বোধন করতে। সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর খাবারের মেন্যু জানতেন কেবল একজন উপপরিদর্শক। হোটেল থেকে আনা সমুচা ও কেকের তিনটি বাক্স পাঠানো হয় একজন নারী পরিদর্শকের কাছে। খাবারগুলো কোথায় পাঠানো হবে সেটি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে ওই নারী পরিদর্শক সেগুলো পাঠিয়ে দেন খাবারের আয়োজনের দায়িত্বে থাকা মেকানিক্যাল ট্রান্সপোর্ট সেকশনে। এরপর সেখানে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ১০-১২ জন কর্মীকে সেই সমুচা ও কেক পরিবেশন করা হয়। তবে ওই নারী পরিদর্শক তার বয়ানে বলেছেন, খাবারের বাক্সগুলো যে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য আনা হয়েছে, সেটি তিনি জানতেন না।
কীভাবে এই কাণ্ড ঘটল, সেটি তদন্ত করার জন্য হিমাচল প্রদেশ সরকার সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। তবে আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্ত করার কথা অস্বীকার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগটি। সিআইডির মহাপরিচালক সঞ্জীব রঞ্জন জানিয়েছেন, এ ঘটনাটি নিয়ে কোনো ধরনের তদন্ত হচ্ছে না। ঘটনাটিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি শুরু হয়ে গেছে। মুখ্যমন্ত্রী সুখবিন্দর সিং সুখুর মিডিয়া উপদেষ্টা নরেশ চৌহানও দাবি করেছেন, সিআইডিকে তদন্তের কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টিকে অন্য মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ নরেশের।
এমনকি এ ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সুখু রসিকতা করে বলেন, আমি সমুচা খাই না। স্বাস্থ্যগত কারণে বাইরের খাবারও খাই না। তাছাড়া সমুচা কোথা থেকে এসেছে, কারা আনিয়েছেন তাও জানি না। বিষয়টি নিয়ে অহেতুক রাজনীতির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এটাকে এতটা গুরুত্বও দিতে চাচ্ছি না। তদন্তের খবর প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষমতাসীন বিজেপি অভিযোগ করেছে, রাজ্যের কংগ্রেস সরকার মুখ্যমন্ত্রীর খাবার নিয়ে বেশি চিন্তিত, জনসাধারণের সমস্যা নিয়ে নয়। বিজেপির ভাষ্য, রাজ্য সরকার সমুচা ইস্যুতে নিজেদের হাসির পাত্র করে তুলেছে। মুখ্যমন্ত্রী সুখুও শিশুসুলভ আচরণ করছেন বলে শাসক দলের অনেক নেতাই মনে করেন। দুই পক্ষ যতই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করুক না কেনÑ বিষয়টি যে রসিকতার সৃষ্টি করেছে সেটিও মানছেন কংগ্রেস-বিজেপির অনেক নেতাও।