ডিএমটিসিএলের ব্যাখ্যা

বিভ্রান্তি এড়াতেই মেট্রোর টিকিটের নকশা বদল

সম্প্রতি মেট্রোরেলের একমুখী যাত্রার টিকিটের নকশা বদল করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। তবে নতুন নকশাটিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, জাতীয় সংসদ ভবন এবং জাতীয় ফুল শাপলার ছবি বাদ দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্র্তৃপক্ষ বলছে, ‘বিভ্রান্তি এড়াতে’ এ বদল। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই।

এ প্রসঙ্গে গতকাল রবিবার রাতে ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ব্যাখ্যা দিয়েছে ডিএমটিসিএল কর্র্তৃপক্ষ। এতে বলা  হয়েছে, এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের আওতায় একমুখী যাত্রার টিকিট এবং এমআরটি পাসের ডিজাইন একইরকম হওয়ায় যাত্রীসাধারণের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। এমআরটি পাসধারী যাত্রী এক্সিট গেটে কার্ড টাচ করে বের হয় এবং একমুখী যাত্রার টিকিটধারী যাত্রীকে টিকিট এক্সিট গেটের স্ল্যাটে প্রবেশ করাতে হয়। উভয় কার্ডের ডিজাইন একইরকম হওয়ায় একমুখী যাত্রার টিকিটধারী যাত্রী এমআরটি পাসধারী যাত্রীকে অনুসরণ করে টিকিটটি এক্সিট গেটের সøটে প্রবেশ না করিয়ে টাচ করায় এক্সিট গেট অ্যালার্ম দেয় এবং সাময়িক সময়ের জন্য অকার্যকর হয়ে যায়। ফলে এক্সিট গেটে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়।

ডিএমটিসিএল জানায়, ইতিমধ্যে দুই লাখেরও বেশি একমুখী যাত্রার টিকিট হারিয়ে গেছে। একমুখী যাত্রার টিকিটধারী যাত্রী টিকিটটি সøটে জমা না দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় ডিজাইন একইরকম হওয়ায় এক্সিট গেটে কর্তব্যরত ব্যক্তি একক যাত্রার টিকিটধারীকে বাধা দিতে বিভ্রান্ত হয় এবং এতে যাত্রী হয়রানিসহ জটিলতার সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া একমুখী যাত্রার টিকিট এবং এমআরটি পাসের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য ইতিপূর্বে ৫০ হাজার একমুখী যাত্রার টিকিটের রঙ পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু তাতেও সুফল পাওয়া যায়নি। একমুখী যাত্রার টিকিটের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নতুন টিকিট সংগ্রহের এবং ডিজাইন পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়। এ অবস্থায় ডিএমটিসিএল ২০ হাজার একমুখী যাত্রার টিকিট জাপানের সনি কোম্পানি থেকে এনেছে। গত সোমবার স্টেশনগুলোতে নতুন টিকিট ছাড়া হয়।

 এ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া গত সরকারের আমলে শুরু হয় এবং ডিজাইন চূড়ান্ত হয় ও সরবরাহ আদেশ দেওয়া হয়।