উদ্বোধনী জুটির ৫৩ রানের পর ১২ বলে ৩ উইকেট পতন

উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান তামিম নিয়েছেন ৫৩ রান। তারপরই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু বাকি ৫ রান যোগ করতেই নেই আরও দুই উইকেট। ১২ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়েছে বাংলাদেশ। 

গজনফরের লেংথ ডেলিভারিগুলো দেখে খেলছেন তানজিদ হাসান তামিম। কিন্তু হাফ ভলি কিংবা কবজির আওতায় পেলেই তাকে তুলে মেরে বাউন্ডারি আদায় করে নিচ্ছেন তানজিদ। অষ্টম ওভারে মারলেন দুটি। প্রথমটি কাভারের ওপর দিয়ে, পরেরটি এক্সট্রা কাভারে। যথার্থ ওপেনারের শট! ৯ম ওভারে ওমরজাইয়ের প্রথম বলে সৌম্য সরকারের দারুণ কাভার ড্রাইভে চার! তাতে বাংলাদেশ দলীয় ফিফটি পূরণ করে।

সেই ফিফটি ছুঁয়েই তিনি আউট হয়ে গেছেন। গত দুই ওয়ানডেতেও ভালো শুরু করেও ফিরে গেছেন। আজ ত্রিশের ঘরেও যেতে পারলেন না! ৯ম ওভারে ওমরজাইয়ের তৃতীয় বলে বল স্টাম্পে টেনে এনে বোল্ড! অফ সাইডে খেলতে গিয়ে প্লেড–অন হলেন সৌম্য। ২৩ বলে ২৪ রানে আউট হয়েছেন তিনি।

তার ফেরার পরের ওভারেই আউট হয়েছেন তানজিদ হাসান তামিম। মোহাম্মদ নবির বলে কভার পয়েন্ট দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা হাশমতউল্লাহ তা সহজেই তালুবন্দী করেছেন। ফেরার আগে ২৯ বলে ৩ চারে ১৯ রান করেন তামিম। পেয়েছিলেন দুবার জীবন।

ওমরজাইয়ের করা ১১তম ওভারের দ্বিতীয় পয়েন্টে বল ঠেলে সিঙ্গেল নিতে ঝুঁকেছিলেন মিরাজ। অতটুকুতেই সর্বনাশ! অন্য প্রান্ত থেকে জাকির দৌড়ে পিচের অর্ধেক পথ পর্যন্ত চলে গিয়েছিলেন। মিরাজ ততক্ষণে তাকে ‘না’ করে দেওয়ায় ঘুরে নন স্ট্রাইক ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করেন জাকির। হলো না! খারোতের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হলেন। ৭ বলে করেছেন ৪ রান।

সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচেই ভালো শুরু পেয়েছেন। প্রথম ওয়ানডেতে ৩৩, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৩৫। দুটিতেই ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। আজও ভালো শুরু পেয়েছেন, কিন্তু তারপর কি হবে! ফারুকি ওয়াইডসহ প্রথম দুই বলে দিয়েছেন মোট ৬ রান। তার তৃতীয় বলে কাভার দিয়ে ক্রিসপি ড্রাইভে চার মারেন সৌম্য। পরের বলটি কবজির আওতায় পেয়ে স্ট্রেট দিয়ে চার মারেন সৌম্য। দারুণ দুটি শট! 

তৃতীয় ওভারে ফারুকির দ্বিতীয় বলটি বাইরে দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছিল। তানজিদ পায়ের কাজ ছাড়াই খেলতে গিয়ে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়েছিলেন। গুলবদিন নাইব দুই হাত দিয়েও বলটি ধরতে পারেননি। জীবন পেলেন তানজিদ! ১২ বলে ৩ রানে ব্যাট করছিলেন তানজিদ। স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে পারছিলেন না। চতুর্থ ওভারে গজনফরের চতুর্থ বলটি কবজির আওতায় পেতেই স্লগ সুইপে লং লেগ দিয়ে চার মেরেছেন। এক বল পর প্রায় একই লেংথের বল সুইপে তুলে মারতে গিয়ে ঠিকমতো ব্যাটে পাননি। বল উঠেছিল আকাশে। আফগান অধিনায়ক শহীদি দৌড়ে গিয়েও ক্যাচটি নিতে পারেননি। চতুর্থ ওভারের মধ্যে দ্বিতীয় ক্যাচ ছাড়ে আফগানিস্তান।