অরফানেজ ট্রাস্ট মামলা

খালেদা জিয়ার ১০ বছরের সাজা স্থগিত

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অধস্তন আদালতের পাঁচ বছর ও হাইকোর্টের দেওয়া ১০ বছর কারাদন্ডাদেশের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে সাজার বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) মঞ্জুর করেছে আদালত। আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের আপিল বেঞ্চ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেয়। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৬ আগস্ট খালেদা জিয়ার দন্ড মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় এ মামলাসহ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্রপতির আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা মওকুফের পর তিনি মুক্তি পান। অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির অংশ হিসেবে সাজার রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন তার আইনজীবীরা। ৩ নভেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত লিভ টু আপিলের ওপর শুনানির জন্য ১০ নভেম্বর দিন ধার্য করে।

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, ‘মামলাটি মিথ্যা ও বানোয়াট হলেও তিনি (খালেদা জিয়া) আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের প্রতি আস্থাশীল। তিনি চান এই মামলা আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হোক। যেজন্য এই আপিল শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

এরপর গত রবিবার শুনানি নিয়ে আদেশের জন্য সোমবার (গতকাল) দিন ধার্য করে আদালত। এর ধারাবাহিকতায় এ আদেশ হলো। আদেশে বলা হয়েছে, লিভ (লিভ টু আপিল) মঞ্জুর করা হলো। উভয় রায়ের (৫ ও ১০ বছর কারাদন্ড) কার্যকারিতা স্থগিত করা হলো।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আসিফ হাসান। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাজার বিরুদ্ধে আমরা দুটি আপিল করেছি। আদালত শুনে আমাদের যুক্তি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করেছে। রায়গুলো স্থগিত করেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত আপিলের শুনানি ও নিষ্পত্তি না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সাজা স্থগিত থাকবে। আমরা আশা করি, দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিলের শুনানি শুরু করতে পারব।’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর কারাদন্ডাদেশ দেয়। ওইদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আপিল শুনানির পর একই বছরের ৩০ অক্টোবর হাইকোর্ট এক রায়ে তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে। পরে হাইকোর্টের এ সাজার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৪ মার্চ আপিল বিভাগে আপিল করেন খালেদা জিয়া। অন্যদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দ-প্রাপ্ত খালেদা জিয়ার পক্ষে সম্প্রতি হাইকোর্টে আপিল শুনানির জন্য আবেদন করলে পেপারবুক (মামলার রায়সহ বৃত্তান্ত) তৈরির নির্দেশ দেয় হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ। ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবর ঢাকার একটি বিশেষ আদালত এ মামলায় খালেদা জিয়াকে সাত বছর সশ্রম কারাদ-াদেশ দেয়।