মেনন শাজাহান মামুনসহ ৭ জন আরও ৪ মামলায় গ্রেপ্তার

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর তিন থানার পৃথক চার হত্যা মামলায় ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, শাজাহান খান, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। অন্য যাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, তারা হলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মদ হোসেন, সাবেক এমপি আব্দুস সোবহান গোলাপ, ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও যুবলীগ নেতা কবির হোসেন।

সকালে পুলিশ তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে। পল্টন থানার যুবদল নেতা শামীমকে হত্যা মামলায় শাজাহান খান, রাশেদ খান মেনন, চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজাউল করিম, কবির হোসেন, আব্দুস সোবহান গোলাপকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। যাত্রাবাড়ী থানার মনোয়ারা হসপিটালের সামনে গুলিতে নিহত হওয়া রফিকুল ইসলামকে হত্যা মামলায় আহম্মদ হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মিরপুরের দুটি হত্যা মামলায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

সাবেক সাংসদ বাহাউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা কুমিল্লা-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার, তার স্ত্রী মেহেরুন্নেছা, মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসীন বাহার সূচনা ও ছেলে আয়মান বাহারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। দুদকের উপপরিচালক রেজাউল করিম এ আবেদন করেন।

তিনি আবেদনে বলেন, আ ক ম বাহাউদ্দিন, তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসীন বাহার সূচনাসহ অন্যরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিয়োগবাণিজ্য, টেন্ডারবাজি, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে নিজ নামে এবং পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এর অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আ ক ম বাহাউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকার উত্তরায় ফ্ল্যাট, কুমিল্লার হাউজিং এস্টেটে একাধিক প্লট, মার্কেটসহ আরও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ রয়েছে। বাহাউদ্দিন ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন। তারা তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর করার চেষ্টা করছেন। পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হবে।