পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্র বা গির্জার কাছে সহায়তা চাইতে গিয়ে হেনস্তা আর অত্যাচারের শিকার হওয়া লাখো মানুষের কাছে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চেয়েছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন।

আজ মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্ট থাকা অসংখ্য মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন তিনি। জনগণের অভিযোগ, আশ্রয়হীন হয়ে কিংবা মানসিক সহায়তার প্রয়োজনে রাষ্ট্রের কাছে সহায়তা চাইতে গেলে তারা হেনস্থার শিকার হয়েছেন।

নিউজিল্যান্ডে সরকারি ও চার্চের আশ্রয়শিবিরে গত ৭০ বছর ধরে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। কমিশনের এমন রিপোর্টের ভিত্তিতে ক্ষমা চেয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী। খবর বিবিসি।

কমিশনের প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে, প্রতি তিনজনের একজন অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। অত্যাচারিতদের মধ্যে মাওরি ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় সম্প্রদায়ের মানুষ এবং মানসিক বা শারীরিক অক্ষম মানুষও রয়েছে।

ক্রিস্টোফার লুকসন বলেন, এমন ঘটনা যাতে আর কখনো না ঘটে, সে দিকে নজর দেওয়া হবে। যে ঘটনা ঘটেছে, তার তদন্ত হবে বলেও জানান তিনি।

১৯৫০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করেছে কমিশন। কমিশনের রিপোর্টে ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, অন্তত ৬ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অত্যাচার এবং হেনস্তার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে প্রচুর শিশু আছে। মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে তাদের ওপর অত্যাচার হয়েছে। বহু শিশু সরাসরি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, সরকারি ও চার্চের প্রতিষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটার ফলে তারা সরাসরি অভিযোগ জানাতেও পারেনি সব সময়।

কমিশনের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, বহু শিশুকে সম্পূর্ণ অকারণে তাদের মায়েদের থেকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে জোর করে। শিশুদের অন্য লোকের কাছে দত্তক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। শিশু ও নারীদের ওপর যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি ইলেকট্রিক শক দেওয়া হয়েছে।

কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, মূলত বর্ণবাদের কারণেই এই অত্যাচার চালানো হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের মাওরি জনজাতির মানুষ।