অসহায় ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াচ্ছে ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’। সংস্থাটির উদ্যোগে আগামী ১৯ নভেম্বর একটি টিম বাংলাদেশি নাগরিকদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে হাদিয়া পৌঁছে দেবে। চিকিৎসাসেবা, বিভিন্ন দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ সেবামূলক নানা কার্যক্রম নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন সংস্থাটির পরিচালক নওমুসলিম মুহাম্মাদ রাজ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান আল মাহমুদ
দেশ রূপান্তর : ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ নামটি কীভাবে এলো?
মুহাম্মাদ রাজ : ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ (ঐঈঝই) একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও মানবকল্যাণে নিবেদিত সেবামূলক সরকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুজুর্গ মুহাম্মাদুল্লাহ হাফেজ্জী (রহ.)-এর মানবসেবার প্রতি দ্বীনি চেতনাকে ধারণ করে তারই নামে ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম নাম ছিল ‘হাফেজ্জী হুজুর (রহ.) সেবা সংস্থা’। সরকারি নিবন্ধন প্রাপ্তির লক্ষ্যে ২০১৮ সালে এটি ‘হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ’ নামে পুনঃপ্রতিষ্ঠা লাভ করে। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ চেষ্টা ও নানামুখী তদন্ত শেষে ২০২২ সালে আমারা রেজিস্ট্রেশন পাই।
দেশ রূপান্তর : কী কী প্রজেক্ট আছে এ সংস্থার?
মুহাম্মাদ রাজ : বেওয়ারিশ ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান, বিশ্ব ইজতেমাসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদান, যৌক্তিক আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা প্রদান, এতিমদের স্বাবলম্বী করতে শিক্ষার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণ প্রদান, মসজিদ-মাদ্রাসা স্থাপন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ সহায়তা প্রদান, গভীর নলকূপ স্থাপন। নিরাপদ ও সুপেয় পানির সরবরাহ, রমজানে প্রতিদিন রোজাদারদের মধ্যে উন্নতমানের ইফতার বিতরণ, ঈদ সামগ্রী ও ঈদের পোশাক বিতরণ, কোরবানির গোশত বিতরণ, বস্তি ও ফুটপাতে রান্না করা খাবার বিতরণ, অসহায়দের স্বাবলম্বী করতে সেলাই মেশিন, অটো রিকশা, গবাদিপশু বিতরণ, সেবা, দাওয়াহ ও ইসলাহি মাহফিল আয়োজন, দ্বীনের সঠিক শিক্ষা প্রচারের লক্ষ্যে ‘মাসিক সৃষ্টির সেবা’ প্রকাশ, মা-বোনদের দ্বীন ও আমল শেখাতে ইবাদাহ চ্যালেঞ্জ ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন, নওমুসলিম সেবা কার্যক্রম, হিজড়া জনগোষ্ঠী ও পিছিয়ে পড়া নারীদের স্বাবলম্বীকরণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সহায়তা প্রদান, নির্বাচন পর্যবেক্ষণকরণ এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানসহ প্রভৃতি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
দেশ রূপান্তর : উল্লেখযোগ্য সেসব প্রজেক্ট কোনগুলো যেগুলোর মাধ্যমে দেশ ও জাতি বেশি উপকৃত হয়েছে?
মুহাম্মাদ রাজ : আমাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রজেক্ট ‘জান্নাতের খোঁজে’। বেওয়ারিশ ও অসহায় রোগীদের চিকিৎসা করা এ প্রজেক্টের আওতায় এ পর্যন্ত ১৭৫-এর বেশি মানুষের গুরুতর অপারেশন যেমন কেমোথেরাপি, কিডনি ডায়ালাইসিস ইত্যাদি করা হয়েছে। এছাড়া এ প্রজেক্টের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আওতায় এ পর্যন্ত লক্ষাধিক রোগী ফ্রি চিকিৎসা ও ওষুধ পেয়েছেন। গত দুই বছরের বন্যায় আমরা ৫২ হাজার পরিবারকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। প্রতি শীতে ১২ হাজার কম্বল বিতরণ, কোরবানিতে গোশত বিতরণ, স্বাবলম্বীকরণ প্রজেক্টের আওতায় সেলাই মেশিন ও গবাদিপশু বিতরণসহ আরও কয়েকটি সমাদৃত প্রজেক্ট রয়েছে আমাদের।
দেশ রূপান্তর : দেশের বাইরে কোন কোন দেশে সংস্থাটি কাজ করেছে এবং সেসব কাজ কী কী?
মুহাম্মাদ রাজ : দেশের বাইরে আমরা তিন দেশে এ পর্যন্ত সেবার কাজ করেছি। ফিলিস্তিনের গাজার খান ইউনিসে পানি ও খাবার বিতরণ চলমান। মিসরে অবস্থিত ফিলিস্তিন শরণার্থী শিবিরে সরাসরি খাবার, কাপড়, শিশু ও মহিলাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ এবং তুরস্কের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৪ হাজার কম্বল ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছি।
দেশ রূপান্তর : সংস্থার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
মুহাম্মাদ রাজ : ভবিষ্যতে আমাদের বর্তমান প্রজেক্টগুলোর পাশাপাশি নিজস্ব জায়গায় একটি হাসপাতাল, এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, রোগীনিবাস ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে চাই। দেশ ও দেশের বাইরে সেবার চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে চাই।
দেশ রূপান্তর : মানবসেবায় অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ সেবা সংস্থাগুলোকেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্মান একুশে পদক দেওয়ার দাবি উঠেছে, বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
মুহাম্মাদ রাজ : সেবার কাজ যদিও কেবল আল্লাহর জন্যই করা হয়, তবুও আমি মনে করি তাদের এই কাজের স্বীকৃতি দেওয়া দরকার। যেন মানুষ সেবামূলক কাজের প্রতি উৎসাহী হয়। এই সরকার যেহেতু বৈষম্যবিরোধী সরকার, তাই আমরা আশা করি সেবা সংস্থাগুলো এবার জাতীয় পদক পাবে ইনশাআল্লাহ। আর এজন্য আমি আন্দোলনে সেবাদানকারী সংস্থাগুলোকেই বেশি হকদার মনে করছি।