নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ‘আহাম্মদ সেন্টার’ নামের একটি মার্কেট দখল করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী মুন্সির বিরুদ্ধে। তার দাবি করা ২ কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে মার্কেটটি দখলে নিয়ে ‘সুফিয়া সুপার মার্কেট’ নামকরণ করেন। মার্কেটের একটি দোকান দখল করে বানান নিজের অফিস। এখন থেকে তাকে ২ লাখ টাকা করে অগ্রিম ও মাসিক ভাড়া দেওয়ার জন্য দোকানদারদের নির্দেশ দেন। তবে চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে আইয়ুব আলী মুন্সি নিজেকে জমির মালিক ও মার্কেটের নির্মাতা বলে দাবি করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় জেএমএস গ্লাস ফ্যাক্টরির মালিক সামছুদ্দিন আহম্মদ সোয়া ১১ শতাংশ জমির মধ্যে ‘আহম্মদ সেন্টার’ নামক মার্কেট নির্মাণ করেন। দুই কোটি টাকা চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আইয়ুব আলী মুন্সি দলবল নিয়ে মার্কেটটি দখল করেন। এ ঘটনায় আইয়ুব আলী মুন্সিকে প্রধান করে ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে গত ১৪ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন কেয়ারটেকার আশরাফুল ইসলাম।
আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আইয়ুব আলী মুন্সি ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা না দিলে মার্কেট দখল করার হুমকি দেন। আমি বিষয়টি মার্কেট মালিককে জানালে তিনি চাঁদা দিতে নিষেধ করেন। চাঁদা না দেওয়াতে মার্কেট দখলে নিয়ে মালিক দাবি করে দোকানদারদের কাছে ২ লাখ টাকা করে অগ্রিম ও মাসিক ভাড়া আদায় করছেন। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। তাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করি।’
মার্কেটের মায়ের দোয়া ইলেক্ট্রিক দোকান মালিক মোস্তফা কামাল বলেন, ‘এতদিন মার্কেট মালিক সামছুদ্দিন আহম্মদ ও তার ম্যানেজার মনির হোসেন ভাড়া নিতেন। এখন আইয়ুব আলী মুন্সি মালিক দাবি করে মার্কেটের নাম পাল্টিয়ে ফেলেছেন। তাকে ২ লাখ টাকা অগ্রিম দিতে বলছেন। আমি দিতে না চাইলে আমাকে মারধর করেন। তাকে অগ্রিম ও মাসিক ভাড়া না দিলে দোকান ছেড়ে দিতে বলেছেন।’
খলিল মটরসের মালিক খলিল মোল্লা বলেন, ‘আমি ১৭ বছর ধরে এ মার্কেটে ব্যবসা করে আসছি। সামছুদ্দিন আহম্মদকে মালিক হিসেবে জেনে আসছি। এখন আইয়ুব আলী মুন্সি এসে বলছেন মার্কেট তার।’
ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ দোকান মালিক সাইফুল ইসলাম আপন বলেন, ‘মার্কেটের আগের নাম পরিবর্তন করে আইয়ুব আলী মুন্সি মালিক দাবি করে নতুন নাম দিয়েছেন। দোকান ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাকে অগ্রিম টাকা দিতে বলছেন।’
এ বিষয়ে আইয়ুব আলী মুন্সি বলেন, ‘সামছুদ্দিন আহম্মদ জমির মালিক নন। একই দাগের সাড়ে ২২ শতাংশ জমির মধ্যে ক্রয়সূত্রে উত্তর পাশের সোয়া ১১ শতাংশ আমি ও দক্ষিণ পাশের সোয়া ১১ শতাংশের মালিক ছিলেন সামছুদ্দিন আহম্মদ। তার অংশ সরকার অধিগ্রহণ করে নেয়। আমার অংশে আমি ২০০৯ সালে টিনশেড মার্কেট নির্মাণ করি। তখন সাবেক এমপি শামীম ওসমানের প্রভাব খাটিয়ে তার মামা শ্বশুর জালাল উদ্দিন ও সামছুদ্দিন আহম্মদ জোর করে আমার অংশের মালিক দাবি করে মার্কেটটি দখল করে নিয়েছিলেন। তখন আমি আদালতে মামলা করলে আমার নামে বহু মিথ্যা মামলা দেন। আমাকে আদালতে পর্যন্তও যেতে দেননি তারা। ফলে আমার অনুপস্থিতিতে ২০২৩ সালে আমার মামলাটি আদালত খারিজ করে দেয়। পরে আমি আবার আপিল করি। বর্তমানে মামলা চলমান রয়েছে।’
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আল মামুন বলেন, ‘মার্কেট দখলের বিষয়ে কেউ আমার কাছে কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেননি।’ জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘আমি এখনো অভিযোগ পাইনি। পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’