উপদেষ্টা নিয়োগ কী প্রক্রিয়ায় জানতে চান সমন্বয়করা

অন্তর্বর্তী সরকারে কী প্রক্রিয়ায় উপদেষ্টা নিয়োগ হচ্ছে, তা জানতে চেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা। তারা বলেছেন, বর্তমানে দলীয় সরকার ও সংসদীয় সরকার নেই, তাই মানুষের মতামত নিয়ে উপদেষ্টা নিয়োগ দিতে হবে। গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা মোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অফিসে দেশের চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা, প্ল্যাটফর্মের আগামীর রূপরেখা ও সমন্বয় বাড়ানো নিয়ে আয়োজিত সভায় এসব কথা বলেন সমন্বয়করা।

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্পর্ক হবে দ্বন্দ্বের এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন সমন্বয়করা। তারা সরকারের ভালো কাজের প্রশংসা করবেন এবং মন্দ কাজের সমালোচনায় সরব থাকবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে গতকালের সভায়।

উপদেষ্টা নিয়োগ ইস্যু নিয়ে ধোঁয়াশা, সরকারের কোনো সিদ্ধান্তে না থেকেও সমালোচনার শিকার হওয়া, সারা দেশে সমন্বয়কদের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখাসহ দেশের নানা ইস্যু নিয়ে সভায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সমন্বয়করা।

সারা দেশে তিন ধরনের কমিটির মাধ্যমে নিজেদের সুসংহত ও সুগঠিত করতে চায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এই প্ল্যাটফর্মটি নানা সমন্বয়হীনতায় ভুগছিল। এসব কারণে ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়কদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পুঞ্জীভূত এসব ক্ষোভ প্রশমিত করতেই কমিটিগুলো গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিন কমিটির মধ্যে একটি হবে সরকারের সঙ্গে, একটি সংগঠন গোছাতে এবং আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি হিসেবে কাজ করবে বলে গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় ১৫৮ জন সমন্বয়ক ও সহসমন্বয়কের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সেখানে ৮৮ জনের মতো উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ, রিফাত রশীদ, আরিফ সোহেল, উমামা ফাতেমা ও আবদুল হান্নান মাসউদ।

জানা গেছে, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সপ্তাহের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি নির্বাহী কমিটি গঠন করা হবে, যা হবে ২০ থেকে ২২ সদস্যের। এতে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়করা থাকবেন। দ্বিতীয়ত, একটি অর্গানাইজিং (সাংগঠনিক) টিম থাকবে। এই টিম একাধিক সেলে বিভক্ত থাকবে এবং সেল অনুযায়ী কাজ করবে। তৃতীয়ত চার সদস্যের যে আহ্বায়ক কমিটি বর্তমানে রয়েছে, তা এই সপ্তাহের মধ্যে বর্ধিত করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি করা হবে।

এ ছাড়া ১৫ নভেম্বর গণঅভ্যুত্থানের ১০০ দিন উপলক্ষে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আন্দোলনে আহতদের খোঁজখবর নেবে কেন্দ্রীয় কমিটি। পাশাপাশি ঢাকায় শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় হবে।

সভা শেষে আবদুল হান্নান বলেন, ‘অতিদ্রুত একটা নির্বাহী কমিটি করা হবে। কয়েকটি সেল করা হবে যাতে মানুষের সঙ্গে সংযোগ হয়। একটা সাংগঠিক কমিটি হবে যারা সংগঠন ঠিক করবে।’

সমন্বয়কদের মধ্যে ও যারা রাষ্ট্র চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা আছে এমন অভিযোগের বিষয়ে আবদুল হান্নান বলেন, যারা রাষ্ট্র চালাচ্ছেন তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকবে, এটা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। সরকারের বাইরের অংশের সঙ্গে কী হচ্ছে সেটা আলাপের বিষয় নয়। তাদের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা আছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ১০ দিনের মধ্যে একটা রূপরেখা দেওয়া হবে।

সম্প্রতি দুজন উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে যে সমালোচনা চলছে সে বিষয়ে আরিফ সোহেল বলেন, কী প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হচ্ছে সেটা তারা জানতে চেয়েছেন। বর্তমানে দলীয় সরকার ও সংসদীয় সরকার নেই, তাই আলোচনা করে নিয়োগের সুযোগ নেই। এজন্য কীভাবে নিয়োগ হচ্ছে সেখানে মানুষের মতামত নিতে হবে।

সভায় সহসমন্বয়কদের প্রশ্নের উত্তরে আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, উপদেষ্টা যাদের করা হয়েছে, তাদের মধ্যে চার-পাঁচজন ছাড়া কেউ কথা বলেন না। মানুষের কাছে জবাবদিহি নেই। উপদেষ্টারা কী কাজ করছেন সেটা কারও কাছে পরিষ্কার নয়।

সভায় হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হচ্ছে। আর এটাকে বিতর্কিত করলে গণঅভ্যুত্থানের যে লেজিটেম্যাসি, সেটাকেও বিতর্কিত করা যাবে।