পদ্মা-যমুনার বিভিন্ন অংশে অসংখ্য চর ও ডুবোচর জেগে ওঠায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার বাঘাবাড়ি নৌবন্দরগামী রাসায়নিক সার, জ্বালানি তেল ও পণ্যবাহী কার্গো-জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সঠিক সময়ের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার ১৪টি বাফার গুদামে আপদকালীন রাসায়নিক সার মজুদ ও জ্বালানি তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিন শ্যালোইঞ্জিন চালিত নৌকা যোগে ঘুরে দেখা যায়, যমুনা নদীর পাবনার বেড়া উপজেলার নাকালিয়া থেকে কৈটোলা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল বালুর চর জেগে উঠেছে। এ ছাড়া কৈটোলা এলাকায় প্রায় ১ হাজার মিটার এলাকা জুড়ে ডুবোচর জেগে উঠেছে। ফলে চট্টোগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ওটিসি-পাওয়ার-জিরো নামের একটি কার্গো জাহাজ সাড়ে ৮ লাখ লিটার ডিজেল তেল নিয়ে ওই স্থানে গত ৫ দিন ধরে আটকা আছে। এ খবরে আরও ছয় থেকে সাতটি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ নগরবাড়ি এলাকায় নোঙ্গর করে রাখা হয়েছে। কৈটোলা এলাকার ওই স্থানে ড্রেজিং শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আটকা পড়ে থাকতে হবে। কবে নাগাদ ওখানে ড্রেজিং শেষ হবে তা সঠিকভাবে জানাতে পারেনি ড্রেজিং কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে আটকা পড়া ওটিসি-পাওয়ার-জিরো কার্গো জাহাজের মাস্টার মো. মীর হোসেন বলেন, আমাদের জাহাজ উদ্ধারে তিন দিন আগে ড্রেজার এসেছে। কিন্তু এখনো তারা সেটিং কাজ শেষ করতে পারেনি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমাদের উদ্ধার করা না হলে যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে এখানে।
বাংলাদেশ নৌযান ফেডারেশন বাঘাবাড়ি নৌবন্দর শাখার সহসভাপতি আব্দুল ওয়াহাব মিয়া বলেন, নিয়ম অনুযায়ী যেখানে পানি কম ও ডুবোচর রয়েছে সেখানে বিআইডব্লিইটিএ-এর পাইলটরা বয়া ও মার্কা স্থাপন করে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করবেন। কিন্তু পাইলটদের অবহেলার কারণে এ নৌরুটের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের কোথাও বয়া ও মার্কা দেওয়া নেই।
বাঘাবাড়ি নৌবন্দর লেবার এজেন্ট আবুল হোসেন বলেন, বাঘাবাড়ি নৌবন্দরে জাহাজ না এলে প্রায় দুই হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। আমরাও আর্থিকভাবে চরম লোকসানে পড়ে যাব।
এ বিষয়ে বিপিসির বাঘাবাড়ি ওয়েল ডিপোর ইনচার্জ ও যমুনা ওয়েল কোং-এর ব্যবস্থাপক আবুল ফজল মো. সাদেকিন বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বাঘাবাড়িতে ডিজেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে ডিজেলের ওপরে তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।