বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ যতটা সম্ভব ছোট হওয়া উচিত। গত বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে এ কথা বলেন ড. ইউনূস। তিনি বর্তমানে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে (কপ২৯) অংশ নিতে আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে অবস্থান করছেন। এই সম্মেলনের ফাঁকে এএফপিকে সাক্ষাৎকার দেন ক্ষুদ্রঋণের এই পথিকৃৎ। সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশে কবে নির্বাচন হতে পারে, সে বিষয়েও মতামত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভোটের মাধ্যমে দেশে একটি নতুন সরকার নির্বাচিত করার আগে নানা সংস্কার দরকার। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস বলেন, সংস্কারের গতিই ঠিক করে দেবে, নির্বাচন কত দ্রুত হবে।
বাংলাদেশে জুলাই-আগস্ট মাসে শিক্ষার্থী-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর দেশত্যাগ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই আন্দোলনে শিশু-কিশোরসহ প্রায় দেড় হাজার মানুষ নিহত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এমন উত্তপ্ত এক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মাথায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। এই প্রসঙ্গে এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, ‘এটি একটি প্রতিশ্রুতি, যা আমরা দিয়েছি। আমরা প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্বাচন দেব এবং নির্বাচিত ব্যক্তিরা ক্ষমতা গ্রহণ করে দেশ পরিচালনা করতে পারবেন।’
নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু না বললেও ড. ইউনূস জানান, কত দ্রুত নির্বাচন হবে, সেটি নির্ভর করবে কত দ্রুত গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হচ্ছে তার ওপর। এর জন্য দ্রুততার সঙ্গে একটি মতৈক্য তৈরির আশা করেছেন বলেও জানান তিনি। ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেন, তিনি দেশকে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবেন।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘যেকোনো সরকারই স্থিতিশীলতার বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকবে। আমরাও উদ্বিগ্ন। আশা করছি, আমরা এটি সমাধান করতে পারব এবং শান্তিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পাব।’
ওই সাক্ষাৎকারের জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ধনী দেশগুলো কীভাবে দরিদ্র এবং আক্রান্ত দেশগুলোর সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারে, সে বিষয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন ড. ইউনূস।
শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতন হয়। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারকে নেতৃত্ব নেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের নাম ঘোষণা করা হয়। প্রথমে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কার দাবিতে লাখো মানুষ প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নামেন। পরে তা শেখ হাসিনার ১৫ বছরের কঠোর শাসনের অবসান দাবিতে দেশব্যাপী গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়।