জামালপুর শহরের ফুলবাড়ীয়া জিগাতলা এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এক পাশে ফুটপাত না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন পথচারীরা। যানবাহন ও পথচারী একসঙ্গে চলাচল করায় মাঝেমধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামালপুর রেলওয়ে ওভারপাসের দক্ষিণ প্রান্তের শেষ মাথায় ব্যস্ততম জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পশ্চিম পাশে ফুটপাত ও ড্রেনের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ইতিমধ্যে রেলওয়ে ওভারপাসের শেষ প্রান্তে সড়কের মাঝখান দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়ার কারণে সড়কটির পূর্ব ও পশ্চিম অংশ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অবশ্য সড়কের পূর্ব পাশে ফুটপাত ও ড্রেন থাকায় এ অংশে অবস্থানরত বাসিন্দাদের খুব একটা সমস্যা পোহাতে হচ্ছে না। তবে সড়কের পশ্চিম পাশে ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির সময় ওভারপাস ও রাস্তার সব পানি সড়কসংলগ্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসা-বাড়িতে ঢুকে পড়ছে। এতে বর্ষার সময় চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ছেন সড়কের পশ্চিম পাশের বসবাসকারীরা।
অন্যদিকে সড়কটির পশ্চিম পাশে চলাচলের জন্য কোনো ফুটপাত না থাকায় মূল সড়ক দিয়েই যাতায়াত করছেন নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ পথচারীরা। মহাসড়কটির পশ্চিম পাশ ঘেঁষেই অবস্থিত প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (পিটিআই)। এ ছাড়া রয়েছে একটি প্রাথমিক স্কুল, জামে মসজিদ, সরকারি জাহেদা সফির মহিলা কলেজ, বেশ কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি বাস কাউন্টার, আনসার-ভিডিপি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। ফলে এই এলাকায় সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত লোকজনের জটলা লেগেই থাকে। অথচ সড়কের পশ্চিম পাশে কোনো ফুটপাত না থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, মসজিদের মুসল্লি, বাস কাউন্টারের যাত্রী, ব্যাংকের গ্রাহক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক-কর্মচারী ও গ্রাহকরা মূল সড়ক দিয়েই হেঁটে চলাচল করছেন। মূল সড়ক দিয়ে চলতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, মোতালেব হোসেন, ইব্রাহীম মিয়া, আবদুস সালাম, সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আমাদের দোকানগুলো থেকে মূল সড়কের দূরত্ব কোথাও এক ফুট আবার কোথাও বা দুই ফুট। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই সড়ক দিয়ে অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে থাকলেও ফুটপাতের অভাবে পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়েই চলাচল করে থাকে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মুখলেছুর রহমান লিখন দাবি করে জানান, ভূমি অধিগ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে ফুটপাত ও পানি নিষ্কাশনের ড্রেন নির্মাণ করতে হবে।
জামালপুর প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (পিটিআই) সুপারিনটেনডেন্ট হোসনে আরা বেগম বলেন, ‘টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের মূল ফটক ঘেঁষেই জামালপুর-টাঙ্গাইল ব্যস্ততম মহাসড়কটি চলে গেছে। এ ইনস্টিটিউটে দুই শতাধিক শিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী ও আরও ২০০ প্রাথমিক স্কুলের খুদে শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে। ব্যস্ত সড়কটি পারাপারের সময় মাঝেমধ্যেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনার শিকার হন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে আমার প্রতিষ্ঠানের সামনে রাস্তা প্রশস্তকরণসহ পানি নিষ্কাশনের ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ করাটা জরুরি হয়ে পড়েছে।’
জামালপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নওয়াজিস রহমান বিশ্বাস বলেন, ‘সড়কের যে স্থানটিতে ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে আমাদের সড়ক ও জনপথ বিভাগের কোনো ভূমি অধিগ্রহণ করা নেই। ভবিষ্যতে ওই জায়গায় যদি ভূমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হয়, তাহলে অবশ্যই সেখানে ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণ করা হবে।’