নিউজিল্যান্ডের আকাশে ভিনগ্রহী মেঘ!

রূপকথার মতো সুন্দর নিউজিল্যান্ডের প্রকৃতি। দীর্ঘ বালুকাময় সমুদ্রসৈকত থেকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি, সবই আছে দেশটিতে। ফলে দেশটি নিয়ে আগ্রহ বিশ্বজোড়া। বিশেষ করে চলচ্চিত্রকাররা দেশটিকে একটু বেশিই পছন্দ করেন। অবশ্য তাদের পছন্দ পরিব্রাজক হিসেবে নয় বরং দেশটির অনিন্দ সুন্দরকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে বা তাদের কল্পকাহিনীর দৃশ্যায়ন করতে এমন জায়গা বিশ্বে বিরল। যেমন ‘লর্ড অফ দ্য রিংস’ সিরিজের সব সিনেমার দৃশ্য এখানেই ধারণ করেছিলেন নির্মাতা পিটার জ্যাকসন।

বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ বলছে, আসলে দেশটির প্রাকৃতিক ভিনগ্রহের মতোই মনে হয়। দেশটির এমন ভিনগ্রহী বৈশিষ্ট্য এর বায়ুমণ্ডল পর্যন্তও বিস্তৃত, যেখানে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ‘তাইরি পেট’ নামের পরিচিত বিশেষ একটি মেঘের দেখা মেলে। নোরিজ বলছে, মেঘটি দেখতে উত্তল লেন্সের মতো, যা বিশেষ পরিস্থিতিতে দেখা যায়। এগুলো বায়ুমণ্ডলের ট্রপোস্ফিয়ারে গঠিত হয়, যা সাধারণত কোনো পর্বতমালার ওপর দিয়ে বায়ু প্রবাহের সময় দেখা যায়। বাতাস যখন পর্বতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়, তাতে পর্বতের অন্য পাশে একটি নিম্নচাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ অবস্থায় বায়ু প্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে এক ধরনের তরঙ্গ সৃষ্টি হয়। আর পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সেই সব তরঙ্গ দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, যেখানে ভূমিকা রাখে বায়ুর আর্দ্রতা ঘনীভূত হওয়ার ঘটনাটি।

তিয়েরি পেট শ্রেণির মেঘ নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডে অবস্থিত ওটাগো অঞ্চলের ‘রক অ্যান্ড পিলার’ পর্বতমালার ওপর গঠিত হয়। মিডলমার্চ শহরের কাছাকাছি এমন মেঘ দেখা খুবই সাধারণ বিষয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ তাইরি পেটের উপস্থিতিকে ঝড়ের সম্ভাব্য সংকেত হিসেবেও বিবেচনা করে থাকেন।

নোরিজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিয়েরি পেট মেঘ তিন ধরনের হয়ে থাকে : যার একটি হচ্ছে ‘অল্টোকিউমুলাস স্ট্যান্ডিং লেন্টিকুলার (এসিএসএল)’। বাকি দুটি হলো ‘স্ট্র্যাটোকিউমুলাস স্ট্যান্ডিং লেন্টিকুলার (এসসিএসএল)’ এবং ‘সার্কোমুলাস স্ট্যান্ডিং লেন্টিকুলার (সিসিএসএল)’। আর প্রতিটি ধরনই গঠিত হয় ভিন্ন ভিন্ন উচ্চতায়।