আল্লাহর জন্য ভালোবাসাই প্রকৃত ভালোবাসা

ভালোবাসা মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার। মানুষের মন ভালোবাসার ব্যক্তিটি ছাড়া অন্য কারও কথা শুনতে চায় না। যাকে সে ভালোবাসে তার জন্য সে সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়। নিজেকে বিলীন করে হলেও তার কল্যাণ প্রত্যাশা করে। পারস্পরিক এই ভালোবাসা যখন আল্লাহর জন্য হয় তখন মানুষ হয়ে ওঠে পরোপকারী ও কল্যাণকামী। আল্লাহর জন্য পরস্পরের এই ভালোবাসাই পারে নিবিড় বন্ধনে সবাইকে আবদ্ধ করতে। এই ভালোবাসাই পারে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সবখানে শান্তির আবহ সৃষ্টি করতে। কেননা একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসাই হলো প্রকৃত ও স্থায়ী ভালোবাসা। এই ভালোবাসা দুনিয়াতে শুরু হলেও অটুট থাকে আখেরাত অবধি। কারণ এই ভালোবাসার ভিত্তি হচ্ছে আল্লাহতায়ালার ইবাদত ও আনুগত্যের ওপর। দ্বীনের অনুসরণ এই ভালোবাসার স্বচ্ছতা ও স্থায়িত্বকে টিকিয়ে রাখে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, মানুষ যাকে ভালোবাসে, সে তার সঙ্গেই থাকবে। (সহিহ বুখারি)

এক মুসলমানের প্রতি অপর মুসলমানের অন্তরে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সহানুভূতি ও মর্যাদাবোধ থাকা আবশ্যক। কেননা আল্লাহতায়ালা এটাকে মুমিনের অন্যতম গুণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল। তার সঙ্গে যারা আছে, তারা কাফেরদের বিরুদ্ধে কঠোর এবং তারা পরস্পর সহানুভূতিশীল। (সুরা ফাতাহ ২৯)

একজন মুমিনের ইমানের দাবি হচ্ছে, সে একমাত্র আল্লাহর জন্যই কাউকে ভালোবাসবে এবং একমাত্র আল্লাহর জন্যই কাউকে ঘৃণা করবে। ফলে মুমিন আল্লাহর পুণ্যবান বান্দাদের ভালোবাসবে, তাদের সঙ্গে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক রাখবে, তাদের কাছে যাতায়াত করবে, তাদের কল্যাণকামী হবে, বিপদাপদে তাদের পাশে দাঁড়াবে, তাদের সান্ত্বনা দেবে। কারণ তারাই হলো প্রকৃত বন্ধু ও আপনজন। কেননা আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসা নিছক একটি সম্পর্ক নয়। বরং এটি একটি বড় ইবাদত। যার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্য অর্জিত হয় এবং ইমানের স্বাদ অনুভব করা যায়। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, যার মধ্যে তিনটি বিষয় থাকবে সে ইমানের স্বাদ অনুভব করবে। এক. আল্লাহ ও তার রাসুল অন্য সব বিষয়ের চেয়ে অধিক প্রিয়তর হওয়া। দুই. কাউকে একমাত্র আল্লাহর জন্য ভালোবাসা। তিন. কুফরি থেকে ফিরে আসার পর পুনরায় কুফরিতে প্রত্যাবর্তন করাকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো অপছন্দ করা। (সহিহ মুসলিম)

যে ভালোবাসা একমাত্র আল্লাহর জন্য তা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। কারণ দুনিয়ার তুচ্ছ স্বার্থ বা মানবিক দুর্বলতার ওপর এ ভালোবাসা গড়ে ওঠেনি। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষেই এ ভালোবাসার সৃষ্টি। আর একমাত্র আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসার দ্বারা ইমানের পূর্ণতা লাভ করে। আর ইমানের পূর্ণতা প্রতিটি মুসলিমের জন্যই কাম্য। আবু উমামা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসে, আর আল্লাহর জন্য কারও সঙ্গে বিদ্বেষ পোষণ করে এবং আল্লাহর জন্যই দান-খয়রাত করে, আবার আল্লাহর জন্যই দান-খয়রাত থেকে বিরত থাকে, সে যেন ইমান পূর্ণ করল। (মিশকাতুল মাসাবিহ)                  

আল্লাহর জন্য কাউকে ভালোবাসলে আখেরাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করা যায়। রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ বলেন, আমার সন্তুষ্টির উদ্দেশে যারা পরস্পরকে ভালোবাসে, তাদের জন্য (পরকালে) থাকবে নুরের মিম্বর, যা দেখে নবী ও শহীদরা ঈর্ষা করবেন। (তিরমিজি)

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা পোষণকারীর একটি মূল্যবান পুরস্কার হচ্ছে, হাশরের কঠিন বিচারের দিনে যখন আল্লাহর আরশের ছায়া ছাড়া আর কোনো ছায়া থাকবে না, তখন আল্লাহর আরশের ছায়ায় নিচে স্থান পাওয়া যাবে। রাসুল (সা.) বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহতায়ালা কেয়ামতের দিন বলবেন, আমার মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের জন্য পরস্পরকে যারা ভালোবেসেছিল তারা কোথায়? আজ আমি তাদের আমার ছায়াতলে আশ্রয় দেব, যখন কোনো ছায়া নেই আমার ছায়া ছাড়া। (সহিহ মুসলিম) আমাদের প্রত্যেকের উচিত একে অপরকে শুধু আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা। তাহলে আমাদের দুনিয়ার জন্য জীবন হবে কল্যাণময়। দুনিয়ার জীবনে কোনো বিশৃঙ্খলা থাকবে না। আমাদের পরকালের জীবনও হবে সুন্দর। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে একমাত্র আল্লাহর জন্যই সবকিছু করার তওফিক দান করুন।