মাদ্রাসা থেকে কুরআন হিফজ করার পাশাপাশি দাওরা পাস করেছিলেন হাফেজ মাহবুবুর হোসেন রাব্বি। তার স্বপ্ন ছিল ইসলামি সংগীতের বড় শিল্পী হওয়া। কলরব নামে একটি সংগীত দলের হয়ে সংগীতও গাইতেন রাব্বি। তবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে গিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন রাব্বি। সেদিন বীরের বেশে একমাত্র ছেলের হেঁটে যাওয়া এখনো যেন চোখে ভাসে বাবা আবদুল হাইয়ের। প্রয়াত ছেলে যেন রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদি মর্যাদা পায়, সেই দাবি রাব্বির মা-বাবার।
গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে সরকার পতনের এক দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভবন ঘেরাও কর্মসূচি পালনে মাদ্রাসায় পড়ুয়া রাব্বিও ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। তবে রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ও পুলিশের ছোড়া গুলিতে সেদিন প্রাণ হারাতে হয়েছিল তাকে। মাহবুবুর হোসেন রাব্বি নারায়ণগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়ায় দারুল উলুম বাগে জান্নাত মাদ্রাসা থেকে দাওরা উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। তিনি ফতুল্লার দক্ষিণ শিয়াচর বটতলা এলাকার বাসিন্দা আবদুল হাই ও শাহনাজ বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান।
বাবা আবদুল হাই জানান, গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় রাব্বি। সেদিন সরকার পতনের লক্ষ্যে গণভবন ঘেরাও কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাসা থেকে বের হন সে। সকালে বাসায় সবার সঙ্গে নাশতা করে মা-বাবার অনুমতি নিয়ে বের হয়। প্রথমে তারা নিষেধ করলেও পরে ছেলের জেদের কাছে হার মানেন তারা। বাবার চোখে শেষ স্মৃতি ছিল, কুরআনের পাখি ছেলের সাদা পাঞ্জাবি ও কালো টুপি পরে বাড়ি থেকে বীরের মতো হেঁটে যাওয়া। যতক্ষণ ছেলেকে চোখে দেখা গিয়েছে, ততক্ষণ তিনি বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেদিনের সেই স্মৃতি তার হৃদয়পটে যেন এখনো ভেসে রয়েছে।
আবদুল হাই আরও বলেন, আমি ক্ষুদ্র ব্যবসা করি। রাব্বি লেখাপড়ার পাশাপাশি আমাকে সহযোগিতা করত। রাষ্ট্রীয়ভাবে ছেলের শহীদি মর্যাদা চাই।
মা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘সেদিন যদি বুঝতাম ছেলে আমাকে ছেড়ে চলে যাবে, তাহলে কি তাকে যেতে দিতাম। শেখ হাসিনার খুনি সন্ত্রাসী বাহিনী যেভাবে আমার বুকের ধন রাব্বিকে নির্মমভাবে পিটিয়ে-গুলি করে হত্যা করেছে, সেটা চিন্তা করলেই বুকে দাউদাউ করে আগুন জ¦লে উঠে। আমরা চাই দ্রুত রাব্বির খুনিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হোক। দ্রুত শেখ হাসিনাসহ সব খুনির বিচার হলে সব শহীদের মা-বাবা শান্তি পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ছেলে নিয়মিত কলরব শিল্পীগোষ্ঠীর হয়ে ইসলামিক সংগীত গাইত। ইউটিউব চ্যানেলেও তার একাধিক গান প্রচারিত হয়েছে। ও বড় ইসলামিক সংগীতশিল্পী হতে হয়েছিল। আমরা রাব্বি হত্যার বিচার চাই। শহীদি মর্যাদা চাই।’