সেতু দেবে যান চলাচল বন্ধ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুর এলাকার একটি খালের ওপর নির্মিত সেতুর নিচ থেকে সম্প্রতি বন্যায় মাটি ধসে যাওয়ায় সেতুটি দেবে গেছে। সেতুর একাধিক স্থানে ফাটলও দেখা গেছে। এতে সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ৩২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৫৪ টাকা ব্যয়ে ৪০ ফুট দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। চলতি বছর জুলাই মাসে বন্যায় সেতুটি দেবে যায় এবং পানির স্রোতে ভেঙে যায় এর সংযোগ সড়ক। এরপর থেকে সেতুটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের বীরপাকেরদহ মির্জাপুর দহের (খাল) ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৭ সালে ওই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়। এ সেতু দিয়ে মির্জাপুর, চরপাকেরদহ, বাংলা বাজার, বীরপাকেরদহ এলাকাসহ বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ যাতায়াত করত। সেতুটি দেবে যাওয়ায় এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা যায়, নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় সেতুর একপাশ দেবে গেছে। সেতুর একাধিক স্থানে ফাটল দেখা গেছে। সেতুর দুপাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে গেছে।

চরপাকেরদহ ফকিরপাড়া এলাকার মো. ছানোয়ার হোসেন আকন্দ বলেন, সেতুর কিছু দূরেই একটা বাজার রয়েছে। বিভিন্ন কৃষিপণ্য বাজারে নিতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় কৃষকদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

বীরপাকেরদহ গ্রামের শামছুল আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন সেতুটি মেরামত না করায় দুর্ভোগে রয়েছেন কৃষকরা। সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী করা হলে অল্প সময়ে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল উপজেলা শহরসহ জেলা শহরের বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে যেতে পারবেন।

শিক্ষার্থী মেহেরাব হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুটি মেরামত করলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, ‘বন্যার পানির স্রোতে সেতুটি দেবে গেছে। নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।’