সংখ্যালঘুদের উদ্বেগ সমাধানের চ্যালেঞ্জ দিশানায়েকের

শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের পর দেশটির পার্লামেন্ট নির্বাচনেও বাজিমাত করেছে অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকের জোট দল ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার। শ্রীলঙ্কার ২২৫ আসনের পার্লামেন্টে ১৫৯ আসন জিতেছে এনপিপি। যার ফলে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে এনপিপি। ১৯৭৭ সালের পর এই প্রথম কোনো একটি দল পার্লামেন্ট নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া অনূঢ়া কুমারার সামনে তাই অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। অনূঢ়ার মার্ক্সবাদী জনতা বিমুক্তি পুরামুনার নেতৃত্বে গঠিত এনপিপি জোটের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। বিশেষ করে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম ও তামিলদের জীবন তিনি কতটা বদলাতে পারেন, সে নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।

সংসদীয় নির্বাচনে এনপিপির প্রধান প্রতিপক্ষ সমাগি জনা বালাবেগায়া ৪০টি আসন পেয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহের দল নিউ ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট পেয়েছে মাত্র পাঁচটি আসন। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে মুসলিম ও তামিলদের ভোটের অধিকাংশই গেছে এনপিপি জোটে। ফলে দেশটির সংখ্যালঘু এ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে অনূঢ়ার প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অরুণা কুলাতুঙ্গা বলেন, ভোটের এ ফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক ভিত্তি এবং জাতি, ধর্ম ও মতাদর্শগত পার্থক্যের কারণে যে বিভেদ, তা পেরিয়ে সবাই একক কোনো দলের পেছনে একজোট হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চল তামিল অধ্যুষিত। জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আহিলান কাদিরগামার বলেন, প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তামিলরা তাদের সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ। নতুন সরকারকে ওই দুই অঞ্চলের মানুষের উদ্বেগের সমাধান করতে হবে। বিশেষ করে গৃহযুদ্ধের সময় তাদের দখলকৃত ভূমি ফিরিয়ে দিতে হবে সরকারকে। তিনি আরও বলেন, সরকারকে অবশ্যই সংখ্যালঘু তামিল ও মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্বেগের সমাধান করতে হবে। তারাই দেশটিতে জাতিগত বিদ্বেষের শিকার বেশি হয়। তবে এ উদ্বেগের সমাধান করা সহজ হবে না বলে মনে করেন তিনি।