অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কলেজে নিয়োগ বাণিজ্য, উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ, অবৈধ কমিটি তৈরি, দোকানঘর বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার সারিয়াকান্দির গণকপাড়া কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবির মিল্টনের বিরুদ্ধে। গত রবিবার এসব অভিযোগ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কলেজে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সেইসঙ্গে তারা অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবির মিল্টনকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর নাদির শাহ নামে এক ব্যক্তি এসব বিষয় উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এক অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবির মিল্টন ২০১৯ সাল থেকে আওয়ামী রাজনীতির ছত্রছায়ায় ও ক্ষমতা প্রয়োগ করে এই পদে বহাল আছেন। সেই ক্ষমতা বলেই অধ্যক্ষ পদপ্রার্থী অন্তত ৯ জন শিক্ষককে পেছনে ফেলে মাস্টার্স পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হবেন শর্তে পদায়ন হলেও পরে তিনি উত্তীর্ণ হতে পারেননি। তবুও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে বহাল আছেন। কলেজের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা বাবদ কলেজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে আত্মসাৎ করেছেন ৩৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া কলেজের উন্নয়ন, শিক্ষকদের টিউশন ফি বাবদ বছরে যে টাকা বরাদ্দ আসে, সে টাকাও গেল পাঁচ বছরে কোনো শিক্ষক পাননি। কলেজের এফডিআর অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন। এভাবে গত পাঁচ বছরে অন্তত ১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া কোনো ধরনের বিজ্ঞপ্তি ও কমিটি ছাড়াই টাকার বিনিময়ে খাইরুল বাসার ও হিরা আকতারকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে এবং আবু সাঈদ, খোরশেদ আলম ও মেহেদী হাসানকে ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হুমায়ূন কবির মিল্টনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং অর্থ আত্মসাতের বিষয়গুলো বর্তমান শিক্ষকদের ওপর চাপিয়ে দেন।

এদিকে কলেজে চাকরিরত একাধিক শিক্ষক ও এলাকাবাসী জানান, যোগ্যতা না থাকলেও তিনি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে এ পদে বহাল রয়েছেন।

বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসার হযরত আলী বলেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কলেজে গিয়ে আমি তদন্ত করেছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর পক্ষে বিপক্ষের সব তথ্য সংগ্রহ করে আঞ্চলিক পরিচালকের কাছে হস্তান্তর করেছি।’