শেষের আগে সর্বাত্মক যুদ্ধ!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের এক হাজার দিন পূর্ণ হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর পর গতকাল মঙ্গ লবার হাজারতম দিনে পদার্পণ করল এই যুদ্ধ। দীর্ঘ সময় পার হলেও, এখনো কার্যত যুদ্ধ বন্ধের কোনো দৃশ্যমান পরিস্থিতি দেখা যায়নি। উল্টো জো বাইডেন রাশিয়ার ভেতরে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করার অনুমতি দেওয়ায় নতুন মাত্রায় দুই দেশের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে গতকাল মঙ্গ লবার যুক্ত রাষ্ট্রের সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। কিয়েভের হামলার আগেই ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। ফলে সামনের দিনগুলোতে এই যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে বদল আসতে পারে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।

প্রায় তিন বছর ধরে চলমান এই যুদ্ধে ইউক্রেনের হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পার্শ্ববর্তী পোল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটাই ইউরোপে সবচেয়ে বড় সংঘাত। এর ফলে সামরিক দিক থেকে কার কত ক্ষতি হয়েছে তা গোপন রেখেছে উভয়পক্ষই। গোয়েন্দাদের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পশ্চিমা দেশগুলো যে হিসাব করেছে, তাতে এক দেশের হিসাবের সে ঙ্গ অন্য দেশের হিসাবের প্রচুর ফারাক রয়েছে। তবে সব রিপোর্টই বলছে, দুই পক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর মানুষ হতাহত হয়েছে। এখনো দুই পক্ষ একে অন্যকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে আগামী জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে আবার প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে আসার পর যুদ্ধে ওয়াশিংটনের নীতিতে পরিবর্তন আনবেন সেটা অনেকটাই নিশ্চিত। তবে বিশেষজ্ঞরা, ট্রাম্পের নীতিতে পরিবর্তন আনলেও ৩৩ মাস ধরে চলা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতির খুব একটা বদল হবে না। তবে ট্রাম্প অচিরেই এই যুদ্ধ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন আগেই। তবে বাইডেনের সিদ্ধান্তের পর যুদ্ধে পুতিনের পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি যুদ্ধে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। মঙ্গলবার যুদ্ধের এক হাজারতম দিনে পুতিন এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, নতুন এই ডিক্রির মাধ্যমে যেসব দেশের পরমাণু অস্ত্র নেই, তাদের যদি তৃতীয় কোনো দেশ বা পক্ষ এ ধরনের বিধ্বংসী অস্ত্র প্রদান করে সেক্ষেত্রে সেসব দেশের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে রাশিয়া। পেসকভ বলেন, রাশিয়া সবসময় পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করার বিপক্ষে। আমরা শুধু আমাদের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতা রক্ষার জন্য এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছি।

ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে কোনোরকম আলোচনা হয়নি। সম্ভাব্য আলোচনার আগে দুই দেশই তাদের শক্তি বাড়িয়ে নিতে চাইতে পারে। ইউক্রেন ও রাশিয়া চাইবে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের আরও কিছুটা জমি দখল করে নিয়ে আলোচনায় বসতে। আর সেই দরকষাকষিতে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকার জন্যই ইউক্রেনকে শেষ সময়ে রুশ ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেন গত আগস্ট থেকে রাশিয়ার কুরস্কের একটা অংশ দখল করে রেখেছে। সেখানে তারা সবচেয়ে দক্ষ সেনা পাঠিয়েছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া সেখানে ৫০ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তা ছাড়া তারা পূর্ব ইউক্রেনেও দ্রুত কিছু এলাকা দখলে অগ্রসর হচ্ছে রুশ বাহিনী।

তবে আসন্ন শীত মৌসুমে ইউক্রেনকে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। রাশিয়ার হামলায় দেশটির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি হতে পারে। গত দুই বছরে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে মাঝারি বৃদ্ধি হয়েছে। তা সত্ত্বেও যুদ্ধের আগের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করলে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লেগেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে, ইস্পাত শিল্প ও কৃষিক্ষেত্র।