রাশিয়ায় হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার একদিন পরই রাশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র নির্মিত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ কর্র্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে এই খবর জানিয়েছে বিবিসি। মস্কোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ইউক্রেন আজ সকালে রাশিয়ার ব্রায়ানস্ক অঞ্চলে একটি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের নির্মিত আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করেছে

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে এবং একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরোগুলোর কারণে ব্রায়ানস্ক অঞ্চলের একটি সামরিক স্থাপনায় আগুন লেগেছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের কারণে সৃষ্ট আগুন দ্রুত নিভে গেছে এবং এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো রাশিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ভূখণ্ডে দূরপাল্লার ওই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে।

এর আগে গতকাল সোমবার মস্কো বলেছিল, এই ধরনের যে কোনো হামলা হলে তারা একটি উপযুক্ত এবং বাস্তব জবাব দেবে। শুধু তাই নয়, আজ মঙ্গলবার ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের সহস্রতম দিনে রাশিয়ার পারমাণবিক মতবাদে পরিবর্তন অনুমোদন করেছেন প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। নতুন নীতিতে এমন কিছু শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। যেগুলোর অধীনে দেশটি তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

রাশিয়ার নতুন পারমাণবিক মতবাদ অনুযায়ী, পরমাণু অস্ত্র নেই এমন কোনো দেশ যদি শক্তিধর অন্য আরেকটি রাষ্ট্রের সহযোগিতায় হামলা চালায় তবে এই হামলা রাশিয়ার ওপর এটি যৌথ আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে রাশিয়ার অভ্যন্তরে প্রথমবার এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালালেও নিজেদের ভূখণ্ডের রুশ-অধিকৃত এলাকায় এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র আগেও ব্যবহার করেছে ইউক্রেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

রাশিয়ার অভিযোগের পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীও নিশ্চিত করেছে যে তারা ব্রায়ানস্কের রাশিয়ান অঞ্চলে একটি গোলাবারুদ গুদামে আঘাত করেছে। তবে এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কি-না সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি কিয়েভ।