জামব্রানোর ওপর ক্ষুব্ধ মেসি, ‘তোমার সমস্যা কী, নির্বোধ’

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল ২০২৪ সাল শেষ করল জয় নিয়ে। লাউতারো মার্টিনেজের একমাত্র গোলে তারা পেরুকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শীর্ষস্থান (২৫ পয়েন্ট) এবং ফিফা র‌্যাংকিংয়ের নেতৃত্ব ধরে রাখল। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে এই অবস্থান তাদের ধরে রাখার যাত্রা অব্যাহত। 

আলবিসেলেস্তের অধিনায়ক লিওনেল মেসির জন্য এটি ছিল বছরের শেষ ম্যাচ। ইন্টার মায়ামি মেজর লিগ সকার থেকে বাদ পড়ায় এবং কোচ জেরার্ডো মার্টিনোর পদত্যাগের কারণে তার ক্লাব মৌসুম শেষ হয়ে গেছে। ৩৭ বছর বয়সী এই সুপারস্টার ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লাউতারো মার্টিনেজের গোলের জন্য অ্যাসিস্ট করেন তিনি। তবে তার চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স ছাড়াও, কার্লোস জামব্রানোর সঙ্গে একটি রূঢ় সংঘর্ষ এই ম্যাচের অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। 

পেরুর প্রতিরক্ষামূলক কৌশল মেসি ও তার দলের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করে। পেরুর দল রক্ষণভাগে জমাট বাঁধে এবং একটিও জায়গা ছেড়ে দেয়নি। খেলায় বারবার ফাউল এবং সংঘর্ষ দেখা যায়। এমন পরিস্থিতি মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের জন্য সুবিধাজনক ছিল না। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে মেসি তার জাদু দেখান। জুলিয়ান আলভারেজের বাঁদিক দিয়ে আগ্রাসী দৌড়ের পর মেসি তিনজন ডিফেন্ডারের মধ্য দিয়ে জায়গা বের করে একটি নিখুঁত ক্রস দেন। লাউতারো মার্টিনেজ বাইসাইকেল কিকে গোলটি করেন এবং পেরুর প্রতিরোধ ভেঙে দেন। 

ম্যাচে পেরুর অন্যতম কৌশল ছিল ‘ট্যাকটিকাল ফাউল’ যা প্রতিপক্ষের আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই থামিয়ে দেয়। মেসি এ ধরনের ফাউলের শিকার হন বারবার। একবার জামব্রানো তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন, যখন তিনি শট নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। মেসি উঠে দাঁড়িয়ে তাকে কঠোরভাবে তিরস্কার করেন এবং বলেন, ‘তোমার সমস্যা কী, নির্বোধ?’ কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ডাচ খেলোয়াড় ওয়াওট ওয়েগহোর্স্টকে বলা তার বিখ্যাত উক্তিরই যেন পুনরাবৃত্তি ছিল এটি। 

এটি ছিল মেসির ২০২৪ সালের শেষ ম্যাচ। সামনে ছুটি এবং ২০২৫ সালের নতুন চ্যালেঞ্জ। বাছাইপর্বে আগামী বছরে অন্তত ছয়টি ম্যাচ খেলবেন তিনি। এছাড়া ফিফা ক্যালেন্ডারে প্রীতি ম্যাচের জন্যও কয়েকটি নির্ধারিত দিন রয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আগে মোট দশটি ম্যাচ খেলতে পারেন মেসি, যা হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।