রাজধানীর তুরাগ কামারপাড়ায় বাসায় ঢুকে ২ বছরের শিশু ও তার মায়ের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে এক দুর্বৃত্ত। এরা হলেন সাথী রানী হালদার (৩৬) ও বিজয়িনী হালদার (২)। এ সময় সাথীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়েছে ওই দুর্বৃত্ত।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। দগ্ধ অবস্থায় তাদের দুজনকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, শিশু ও তার মাকে বিকেলে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের দুজনের শরীরই এসিড দগ্ধ হয়ে মাথা, মুখমন্ডলসহ শিশুটির ২০ শতাংশ ও তার মা সাথীর ১৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। দুজনের অবস্থাই গুরুতর।
দগ্ধ সাথীর দেবর অশ্বিনী হালদার জানান, তাদের বাড়ি পাবনার ফরিদপুর থানার ডেমড়া গ্রামে। বর্তমানে তুরাগ কামারপাড়া তারা মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। বিজয়িনীর বাবা জয় কুমার হালদার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন, আর মা সাথী রানী গৃহিনী। ৩ মেয়ের মাঝে সবার ছোট বিজয়িনী।
তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মেয়ে বিজয়িনীকে নিয়ে বাড়ির কিছুটা অদূরে সেলুনে চুল কাটাতে যান সাথী। চুল কাটানো শেষে বাসায় ফিরছিলেন। তখন এক যুবক তার পিছু নেয়। বাসার গেটের সামনে পৌঁছলে তখন ওই যুবক তাকে জিজ্ঞেস করে, রফিক নামে কাউকে তিনি চেনেন কিনা। সাথী পিছন দিকে ঘুরে তাকাতেই তার মুখমন্ডলে এসিড নিক্ষেপ করে। সাথীর গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় কোলে থাকা শিশুটিও এসিড দগ্ধ হয়।
তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত প্রথমে উত্তরা মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরবর্তিতে বিকেলে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন। গলার চেইন ছিনতাই করতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছেন তার স্বজনরা। বাসার সামনের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে ওই দুর্বৃত্তকে প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করেছেন ভুক্তভোগী সাথী রানী।