জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অটোরিকশার ধাক্কায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা করিম রাচি নিহতের ঘটনায় রিকশা চালককে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে মশাল মিছিল করেছে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গন থেকে মিছিল বের করেন তারা। মিছিলটি বটতলা এলাকা ঘুরে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে নিহত আফসানা করিমের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন তারা। পরে তারা সেখানে একটি সমাবেশ করেন।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘হত্যাকারীর কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘ বিচার চাই বিচার চাই, রাচি হত্যার বিচার চাই’, তুমি কে আমি কে, রাচি রাচি’, ‘ক্যাম্পাসে লাশ পড়ে, প্রশাসন কী করে’, ‘অটোরিকশার সিন্ডিকেট, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘আমার বোন কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘লাশের ওপর রাজনীতি, চলবে না চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত হোসেন বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল এগারোটি। কিন্তু সেই দাবিগুলোর মধ্যে কিছু কিছু দাবি রয়েছে যেগুলো প্রক্রিয়া শেষ হতে একটু বেশি সময় লাগবে। এ জন্য আমরা রাচিকে ধাক্কা দেওয়া ঘাতক রিকশা চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনার এক দফা দাবিতে মশাল মিছিল করেছি। আমরা ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কয়েকবার গিয়েছি। আমরা ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছিলাম কিন্তু প্রশাসন এখনো পর্যন্ত খুনিকে শনাক্ত করতে পারেনি। আমরা কালকে যখন উপাচার্যের কাছে গিয়েছিলাম তখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। আমরা উপাচার্যের কাছে গিয়ে আমাদের দাবিগুলো উত্থাপনের পর তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন এবং আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করার ব্যবস্থা করেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘাতক রিকশা চালককে আইনের আওতায় না আনবেন ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাব। তবে আমরা উপাচার্যকে দুইদিন সময় দিতে চাই। আমাদের দাবি মেনে না নেওয়া হলে আগামী রবিবার থেকে আমরা পুনরায় আমাদের কর্মসূচি জারি রাখব।’
এ সময় মার্কেটিং বিভাগের প্রথম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জান্নাতুন নিসা মীম বলেন, ‘রাচির হত্যাকারীকে শনাক্ত করে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আমরা কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে অংশ নিব না।’