ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি গতকাল বৃহস্পতিবার রাশিয়ার দক্ষিণ আস্ট্রাখান অঞ্চল থেকে একটি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউক্রেনের মধ্য-পূর্বাঞ্চলের শহর দিনিপ্রোতে আঘাত হেনেছে। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রথমবার এমন বিধ্বংসী অস্ত্র ব্যবহার করল মস্কো। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমাদের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রুশ ভূখন্ডে হামলার জবাব হিসেবে আইসিবিএম হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দিনিপ্রোর কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলো এই হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তবে কোনো ধরনের আইসিবিএম দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলায় ক্ষয়ক্ষতি সম্বন্ধে কিছু জানায়নি কিয়েভ। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এমনকি পারমাণবিক অস্ত্র নিয়েও হামলা চালাতে পারে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম ব্যবহার করে রাশিয়ার ব্রিয়ানস্ক প্রদেশের এক সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইউক্রেন। বুধবার যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের তৈরি স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। দুই পক্ষের এই হামলা-পাল্টা হামলা নতুন করে যুদ্ধে উত্তেজনা বাড়াবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। গত বছর ইউক্রেনকে স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছিল যুক্তরাজ্য। কিন্তু শর্ত ছিল, তা ইউক্রেনের সীমানার ভেতরেই ব্যবহার করতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পশ্চিমাদের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার অনুমতি দেওয়ায় সেটি এখন নিজেদের সীমান্তের বাইরেও ব্যবহার করতে পারবে কিয়েভ। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। অত্যাধুনিক এই ক্ষেপণাস্ত্র ২৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। এদিকে, সাময়িক বন্ধ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভে তাদের দূতাবাস পুনরায় চালু করেছে। বুধবার রাশিয়ার সম্ভাব্য বড় ধরনের বিমান হামলার হুমকির পর দূতাবাসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।