আন্তঃনগর সীমান্ত এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭৪৭) ট্রেনের ব্রেক ফেলের ঘটনা ঘটেছে। ট্রেনটি নীলফামারীর সীমান্ত রেলস্টেশন চিলাহাটি থেকে খুলনা যাচ্ছিল। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে নীলফামারীর ডোমার রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতির সময় ট্রেনের ব্রেক ফেল করলে স্টেশন ছেড়ে দুই কিলোমিটার দূরে গিয়ে চালক ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন। ওই সময় যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন ও যাত্রীরা রক্ষা পায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ওই ট্রেনের যাত্রীরা জানায়, খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি চিলাহাটি থেকে ১৫ মিনিট বিলম্বে সন্ধ্যা ৭টায় ছেড়ে আসে। পরের স্টেশন ডোমারে ট্রেনের যাত্রাবিরতি ছিল। কিন্তু দ্রুত গতিতে থাকা ট্রেনটি ডোমার রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে থামতে না পেরে স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার অদূরে গিয়ে থামে । পরে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আবার উল্টো পথে প্ল্যাটফর্মে আসে যাত্রী তোলার জন্য।
চিলাহাটি থেকে ডোমারে ওই ট্রেনে আসা রতন ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, ডোমার বাজার রেলগেট অতিক্রম করার পর প্ল্যাটফর্মে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু প্ল্যাটফর্মের কাছাকাছি এসেও স্বাভাবিক গতি ছিল না ট্রেনটির। এতে ট্রেনে থাকা আমরা কয়েকজন যাত্রী ভয় পাই। পরে মনে হয়েছিল ট্রেনের ড্রাইভার মনে হয় ঘুমিয়ে গেছে। পরে ট্রেনটি আনুমানিক দুই কিলোমিটার দূরে থামার পর ট্রেন থেকে নেমে পড়ি। পরে জানতে পারি ট্রেনটি ব্রেক ফেল করেছে।
এ ব্যাপারে ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক) আসাদুজ্জামান খান ও ট্রেন পরিচালক (গার্ড) হুমায়ুন কবীর খান উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানান, সাধারণ ব্রেক কাজ না করায় স্টেশন ছেড়ে অনেক দূর গিয়ে জরুরি ব্রেক ধরে ট্রেনটি থামানো হয়। ততোক্ষণে স্টেশন থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে চলে আসে ট্রেন। এরপর পেছনে এনে যাত্রী নিয়ে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে ডোমার রেলস্টেশন থেকে রওনা করে ট্রেনটি।
ডোমার রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার বাবু হোসেন জানান, আমরা মাইকে বরাবরের মতো ঘোষণা দিচ্ছিলাম স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে ট্রেন থামার কথা। কিন্তু ব্রেক ফেল হওয়ায় দুই কিলোমিটার দূরে চলে যায়। এ সময় ট্রেন চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরে ট্রেনটি পেছনে এসে যাত্রী তোলে। এরপর যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি ৭টা ৫০ মিনিটে রওনা দেয়। তবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।