মৃত্যু নাটক সাজিয়ে পরিবার ছেড়ে পালালেন মার্কিন নাগরিক

নিজের মৃত্যুর নাটক সাজিয়ে পরিবারকে ফেলে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন এক মার্কিন নাগরিক। জানা গেছে, রায়ান বর্গওয়ার্ট নামে ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনের বাসিন্দা। তবে, এখন তিনি বেঁচে আছেন এবং নিরাপদ আছেন তা প্রমাণের জন্য উইসকনসিনের তদন্তকারীদের কাছে একটি ভিডিও পাঠিয়েছেন রায়ান। খবর বিবিসির।

বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিন লেক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানায়, ৪৫ বছর বয়সী রায়ান বোর্গওয়ার্ড ১২ আগস্ট মাছ ধরতে যাওয়ার সময় নিখোঁজ হন।

বিবিসি জানায়, ৪৪ বছর বয়সী রায়ান গত ১২ আগস্ট নিখোঁজ হন। সে দিন তিনি গ্রিন লেকে মাছ ধরতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি।

পুলিশ বলছে, হ্রদে নিজের কায়াক ও মোবাইল ফোন ডুবিয়ে দেওয়ার পর তিনি একটি ছোট নৌকা তীরে নিয়ে আসেন। যেখানে তিনি একটি ই-বাইক লুকিয়ে রেখেছিলেন। এরপর তিনি রাতারাতি সাইকেল চালিয়ে ম্যাডিসন, উইসকনসিন এবং ডেট্রয়েটের একটি বাসে চড়েছিলেন। সেখান থেকে কানাডার একটি বিমানে উঠে অজ্ঞাত স্থানে চলে যান রায়ান।

প্রাথমিকভাবে পুলিশের সন্দেহ, তিনি ৫৪ দিন ধরে হ্রদে ছিলেন। পরে তিনি পূর্ব ইউরোপে পালিয়ে যান।

কর্তৃপক্ষের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, তাদের তল্লাশির ব্যয় বাবদ বোর্গওয়ার্ডের কাছে ৪০ হাজার ডলার পাওনা রয়েছে এবং তার নিখোঁজের তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রিন লেক কাউন্টির শেরিফ মার্ক পোডল বলেন, রুশ ভাষায় কথা বলা এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পর কর্তৃপক্ষ চলতি মাসের শুরু থেকেই বোর্গওয়ার্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল। তিনি তাকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করাতে সাহায্য করেন। তবে ওই নারী কে বা বোর্গওয়ার্ডের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পোডল বলেন, ‘সবচেয়ে ভালো খবর হলো তিনি এখনো বেঁচে আছেন এবং ভালো আছেন। দুঃসংবাদটি হলো আমরা জানি না যে রায়ান ঠিক কোথায় রয়েছে এবং সে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

বোর্গওয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কাছে যে ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওটি পাঠিয়েছেন সেটি সেলফি স্টাইলে তোলা এবং তাকে সাদা দেয়াল ঘেরা একটি অ্যাপার্টমেন্টে দেখা যাচ্ছে। ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘শুভ সন্ধ্যা, আমি রায়ান বোর্গওয়ার্ড। আজ ১১ নভেম্বর। রাত আনুমানিক ১০টা বাজে। আমি আমার অ্যাপার্টমেন্টে আছি। আমি নিরাপদে আছি, নিরাপদে আছি, কোনো সমস্যা নেই। আশা করি এটি কাজ করবে।’

রায়ানের বিষয়ে আরও অনুসন্ধান করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পৌনে চার লাখ ডলারের একটি জীবনবিমা করেছিলেন তিনি। তাঁর কিছু হয়ে গেলে এই টাকা পরিবার পাবে, এমন শর্তেই বিমাটি করা হয়েছিল। তবে কেন তিনি তার পরিবার ও পরিচিত জীবন ত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন, সেই রহস্য এখনো উদ্‌ঘাটন হয়নি।