ইসলামি অর্থব্যবস্থা জনকল্যাণকর

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ হলো অর্থনীতি। সমাজে বহু অর্থব্যবস্থা প্রচলিত আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে জনকল্যাণকর ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থব্যবস্থা হলো ইসলামি অর্থব্যবস্থা। সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন বলেন, ইসলামি অর্থনীতি হলো জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞান। আল্লাহর বিশ^ প্রতিপালন নীতির অনুসরণে সৃষ্টির লালন-পালনের জন্য সমুদয় জাগতিক সম্পদের সামগ্রিক ও কল্যাণধর্মী ব্যবস্থাপনাই ইসলামি অর্থনীতি।

সৃষ্টিজীবের কল্যাণের জন্য সম্পদের সর্বাধিক উৎপাদন, সুষ্ঠু বণ্টন, ন্যায়সংগত ভোগ বিশ্লেষণই হলো ইসলামি অর্থনীতি। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সম্পদের মালিকানা রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তির নয় বরং সম্পদের মালিক একমাত্র আল্লাহ। মানুষ সম্পদের আমানতদার, মালিক নয়। শ্রমের ভিত্তিতে মানুষ সম্পদের অধিকার লাভ করবে। আর পঙ্গু, বৃদ্ধ, কর্মে অক্ষমদের আর্থসামাজিক নিরাপত্তার জন্য জাকাত বা অন্য ব্যবস্থা করা হয়। ব্যক্তি ও রাষ্ট্র প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ অভাবগ্রস্তদের অভাব পূরণে প্রস্তুত রাখে।

ইসলামি অর্থব্যবস্থায় সুষম বণ্টন জনকল্যাণমুখী টেকসই অর্থনৈতিক মডেল প্রতিষ্ঠা করে। যার উৎস পবিত্র কোরআন ও হাদিস। রাসুল (সা.) মদিনায় আর্থিক সমৃদ্ধির নজির স্থাপন করেন। শোষণ-বঞ্চনা, বৈষম্য, দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের মুখে হাসি ফোটান। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান বিশ্বে ইসলামি অর্থব্যবস্থা ধুলোয় মলিন হয়ে গেছে। মুসলিম উম্মাহের উচিত, মানবতার কল্যাণে সমাজের সবার কাছে ইসলামি অর্থব্যবস্থার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বৈশিষ্ট্য সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা। যাতে করে মানুষ পরাধীন ও যন্ত্রমানব হওয়ার প্রক্রিয়া থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প ও কৃষিতে উৎসাহিত করে।

ইসলামি অর্থব্যবস্থায় জাকাত অন্যতম একটি চালিকাশক্তি। আল্লাহতায়ালা জাকাত আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। জাকাত আদায়কারী ও গ্রহীতা উভয়ের কল্যাণ রয়েছে। ইসলামি সমাজে বিত্তবান লোকরা পবিত্র ও পরিশুদ্ধ হতে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে জাকাত আদায় করে এবং গ্রহীতারা নিঃসংকোচে গ্রহণ করতে পারে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তাদের সম্পদ থেকে সদকা নাও। এর মাধ্যমে তাদের তুমি পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করবে। আর তাদের জন্য দোয়া করো, নিশ্চয় তোমার দোয়া তাদের জন্য প্রশান্তিকর। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’ (সুরা তওবা ১০৩)

এ ছাড়া ফিতরা, দান, সদকা, কাফফারার বিধান এবং উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টনের বিধান রয়েছে। সব সময় হালাল-হারামের বিধানকে প্রাধান্য দিয়ে সমৃদ্ধি অর্জনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আর প্রচলিত অর্থব্যবস্থায় যেকোনো মূল্যে মুনাফা অর্জন যেমন চোরাচালান, ভেজাল মেশানো, মজুদদারি, ওজনে কারচুপি, মুনাফাখোরি, অন্যায় জবরদখল দূর করতে ইসলামি অর্থব্যবস্থার বিকল্প নেই।